পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বৃহস্পতিবার একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে অন্তত ২৮ শিশু ও একজন নারী শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি মানুষ। এ ঘটনায় স্কুলটির মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এ দুর্ঘটনা ঘটে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়ে আছে কি না, তা খুঁজে বের করতে উদ্ধারকর্মীরা তল্লাশি চালাচ্ছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন ছাত্রীও রয়েছে।
ক্যাপিটাল সিটি পুলিশ কর্মকর্তা (সিসিপিও) মিয়া সাঈদ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর বেসরকারি স্কুলটির মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ছাদধসে পড়া স্কুলটি একটি শিক্ষা ট্রাস্টের অধীনে পরিচালনা করছিলেন মালিক।
খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারে বেশ কয়েকজন শিশু ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছিল বলে জানিয়েছেন জরুরি পরিষেবার মুখপাত্র বিলাল ফাইজি।
হাসপাতালের মুখপাত্র মোহাম্মদ আসিম হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহত বা আহত সব শিশুর বয়স ১৩ বছর বা তার কম। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
কয়েক ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া সবাইকে বের করে আনা হয়েছে এবং কর্মীরা এখন ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করছেন। খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং কী কারণে ছাদ ধসে পড়ল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছেন। তিনি আহত শিশুদের সর্বোত্তম চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসাধীন আহত শিক্ষিকা মাহভিশ জামান জানান, তিনতলা বিশিষ্ট এই স্কুলটিতে নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১,২০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত। তিনি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, ছাদ ধসে পড়ার সময় তিনি নিজের শ্রেণিকক্ষে ছিলেন; মনে হয়েছিল যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। এরপর হাসপাতালে তার জ্ঞান ফেরে। পাকিস্তানের পেশোয়ারে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পেশোয়ারের কেন্দ্রস্থলে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত এই স্কুলে সবার আগে পৌঁছান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যান উদ্ধারকর্মীরা।
সামিউল্লাহ খান নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ছাদ ধসে পড়ার খবর পেয়েই তিনি দ্রুত স্কুলে ছুটে যান এবং তিন ছাত্রীকে উদ্ধারে সহায়তা করেন। তিনি জানান, তার ছেলে, যে এই স্কুলেরই ছাত্র, সে বেঁচে গেছে কারণ ঘটনার সময় সে পানি খাওয়ার জন্য শ্রেণিকক্ষের বাইরে ছিল।
মোহাম্মদ খান নামে আরেক বাসিন্দা জানান, উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ভেতরে আটকা পড়া শিশু ও কর্মীদের উদ্ধারের চেষ্টা চালান। স্কুলের বাইরে এবং সরকারি ‘লেডি রিডিং হাসপাতালে’ উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের খোঁজ করছিলেন; তারা জানতেন না যে তাদের সন্তানরা বেঁচে আছে কি না।
কী কারণে ছাদটি ধসে পড়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পেশোয়ার পুলিশের প্রধান সাঈদ আহমেদ জানিয়েছেন, স্কুলের মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভবনটির কাঠামো দুর্বল ছিল।
প্রাদেশিক সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্কুলটি একটি তিনতলা ভবনে অবস্থিত ছিল এবং ছাদ ধসে পড়ার কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র সামার হারুন বিলুর জানান, আহত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য উদ্ধারকর্মীদের প্রশংসা করেন। তিনি আরও বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের নিরাপদে বের করে আনতে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের সম্পদ কাজে লাগাচ্ছে।
ইসলামাবাদে, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পৃথক বিবৃতিতে এই প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট জারদারি বলেন, দুঃখের এই মুহূর্তে পুরো জাতি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর শোকের অংশীদার।
তিনি এই ধসের ঘটনার একটি সামগ্রিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন এবং একই ধরনের ট্র্যাজেডি রোধ করতে স্কুল ভবনগুলো যেন নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে তৈরি হয়, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।
জুলাই মাসে লাহোরে নির্মাণাধীন একটি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে চার স্কুলশিক্ষার্থী নিহত হয়।
পাকিস্তানে ভবন ধসের ঘটনা প্রায়ই ঘটে, কারণ সেখানে নির্মাণ সংক্রান্ত মানদণ্ডগুলো খুব একটা কঠোরভাবে কার্যকর করা হয় না। অনেক ভবনই নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয় এবং খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে প্রায়শই নিরাপত্তা বিধিগুলোকে উপেক্ষা করা হয়।
