১৩৪ টনের ২৪টি এসিতেও ঠান্ডা হচ্ছিল না মণ্ডপ। ভিড়ে ঠাসা জায়গায় নিমেষেই দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। চোরবাগান সর্বজনীনে বিপর্যয়ের ফরেনসিক রিপোর্টে সামনে এল বিস্ফোরক তথ্য।
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, মণ্ডপ ফাঁকা থাকলে বা ভিড় নিয়ন্ত্রণে থাকলে ১৩৪ টনের এসি যথেষ্ট। তবে বিপুল পরিমাণ ভিড় হওয়ায় এসি এবং ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল না। তার ফলে দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। মণ্ডপ থেকে একসঙ্গে বহু দর্শনার্থী তাড়াহুড়ো করে বেরনোর চেষ্টা করেন। তার ফলে পদপিষ্টের মতো বড়সড় বিপর্যয় হয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টেও শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যুর তথ্য সামনে এসেছে। তার ফলে স্বাভাবিকভাবেই মণ্ডপের ভেন্টিলেশন সিস্টেম নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বলে রাখা ভালো, প্রথম সপ্তমীতে অর্থাৎ গত ১৭ অক্টোবর, শনিবার চোরবাগানে ঘটে গিয়েছে ভয়ংকর দুর্ঘটনা। ঠাকুর দেখতে গিয়ে প্রবল ভিড়ে পদপিষ্ঠ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। জখম হন কমপক্ষে ২৫ জন। দুর্ঘটনার রাতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন হাই কোর্টের কোনও বিচারপতিকে মাথায় বসিয়ে তদন্তকারী দল তৈরি করা হবে। মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লেখেন। সেক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত কোনও বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। সেই নির্দেশ মেনে বিশেষ তদন্তকারী দল অর্থাৎ সিট গঠন করেছে রাজ্য সরকার। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে এই সিট গঠন করা হয়েছে। এই দলে আছেন বিপর্যয় মোকাবিলা ও নাগরিক সুরক্ষা দপ্তরের সচিব, স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের ডিজি, আইজি। এছাড়া জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্য, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক প্রতিনিধি এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির প্রতিনিধি।
