Authored By:
Published on
:
2 min read
কুবলয় বন্দ্যোপাধ্যায়
'পাঁচ ভাই একসাথ, মারছে ঘুসি, খাচ্ছে ভাত। আরও পাঁচ সাথে তার, কেমন আছেন? নমস্কার' — ছাদের ঘরে ছোট্ট রুকুর দেওয়া এই ধাঁধার চ্যালেঞ্জের সামনে একেবারে ল্যাজেগোবরে অবস্থা হয়েছিল লালমোহনবাবুর। তবে 'মগজাস্ত্র' যার সবচেয়ে বড় সহায়, সেই ফেলুদা ঘাবড়ায়নি। হাসিমুখে ধাঁধার সমাধান করে দিয়েছিল। পেশায় গোয়েন্দা না হলেও প্রায় ফেলুদার মতোই মগজাস্ত্রের অধিকারী বেশ কিছু প্রতিভাবানের সমাগম হয়েছে কলকাতায়। পরস্পরের সঙ্গে বুদ্ধির প্রতিযোগিতায় নিজেদের মগজের ক্ষমতাটা একবার পরীক্ষা করে নিতেই দুর্গাপুজোর আবহে তাঁদের শহরে আগমন।
পুজোর কেনাকাটা, মণ্ডপে মণ্ডপে ঠাকুর দেখা, আড্ডা আর খাওয়াদাওয়া। উৎসবের মরশুমে কলকাতার চেনা ছবিতে এ বার বাড়তি সংযোজন মগজাস্ত্রের লড়াই। সেখানে অস্ত্রের ঝনঝনানি নেই, নেই গোলাগুলি। আছে সংখ্যার খেলা, যুক্তির মারপ্যাঁচ আর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সমাধান করার মতো সব ধাঁধা। রবিবার থেকে শহরে শুরু হয়ে গেল ১৯তম বিশ্ব সুডোকু চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ৩৩তম বিশ্ব পাজ়ল চ্যাম্পিয়নশিপ। পাঁচ দিনের এই বুদ্ধির লড়াইয়ে যোগ দিয়েছেন ৩৫টি দেশের প্রতিযোগীরা।
বিশ্বের তাবড় মগজাস্ত্রীরা কলকাতায় হাজির। তাঁদের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। পাঁচ দিনে ৩৮টি রাউন্ড, ১০০টিরও বেশি সুডোকু এবং ২৫০টিরও বেশি পাজ়ল। প্রতিটি ধাপে চাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, নির্ভুল হিসেব এবং ঠান্ডা মাথায় সমস্যার সমাধান। একটি ছোট ভুলও পিছিয়ে দিতে পারে প্রতিযোগীকে। কাগজে ছাপা কয়েকটি সংখ্যা কিংবা আঁকিবুঁকির ছক যে এমন কঠিন লড়াইয়ের ময়দান হয়ে উঠতে পারে, তারই প্রমাণ এই আয়োজন।
বিশ্বের বুদ্ধির খেলায় আমেরিকা, চিন, জার্মানি ও জাপানের দাপট দীর্ঘদিনের। তবে ভারতও একেবারে পিছিয়ে নেই। ২০২২–এ পোল্যান্ডে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিগত বিভাগে রুপো জিতেছিলেন ভারতের প্রসন্ন সেশাদ্রি। অনূর্ধ্ব-১৮ বিভাগে সোনা পেয়েছিলেন নিত্যন্ত আগরওয়াল। এ বার ভারতীয় টিমের সুডোকু দলে রয়েছেন নিত্যন্ত আগরওয়াল, কিশোর কে. শ্রীধরন, কার্তিক রেড্ডি, এবং হর্ষ পোদ্দার। পাজ়ল টিমে প্রথম তিন জনের সঙ্গে রয়েছেন জয়পাল আর. মোগিলিগুন্ডলাও।
এ বারের প্রতিযোগিতার বিশেষ আকর্ষণ, রামায়ণ ও মহাভারতের পর্ব ঘিরে তৈরি ধাঁধা। অর্থাৎ, প্রাচীন ভারতীয় মহাকাব্যের কাহিনি এ বার মিশছে আধুনিক যুক্তির খেলায়। বিদেশি প্রতিযোগীদের কাছেও তা অন্য রকম অভিজ্ঞতা।
দুর্গাপুজোর আবহে কলকাতাকে বেছে নেওয়ার পিছনেও রয়েছে বিশেষ ভাবনা। শহরের বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের সঙ্গে উৎসবের স্বাদ মিলিয়ে দিতে চান আয়োজকেরা। ১৪ অক্টোবর সাধারণ মানুষের জন্যও থাকছে পাজ়ল নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান। সেখানে ধাঁধার কর্মশালা থেকে যুক্তির খেলা, সবেতেই অংশ নেওয়ার সুযোগ। পুজোর আগে তাই শহরে শুধু ঢাকের বাদ্যি নয়, চলছে মগজেরও কসরত।
