Published on
:
2 min read
এই সময়, বনগাঁ: পালাবদলের পর তোলাবাজি, সিন্ডিকেটরাজ নিয়ে দলের কর্মীদের সতর্ক করেছেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব থেকে মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তোলাবাজি বন্ধ হয়নি। বরং দলীয় নির্দেশ উপেক্ষা করে তোলাবাজি চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির কর্মী থেকে স্থানীয় স্তরের নেতাদের বিরুদ্ধে। বনগাঁ শহরও এর ব্যতিক্রম নয়। বিজেপির কর্মী–সহ এক শ্রেণির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজির অভিযোগে কার্যত সিলমোহর দিলেন কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। অভিযোগ পেলে এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। কারও নাম উল্লেখ না করলেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নিশানায় যে রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বিজেপির নেতা–কর্মীরা, সেটা মনে করছেন স্থানীয় নেতৃত্বই।
সোমবার দুপুরে বনগাঁ পুরসভায় আসেন বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু। বেশ কিছুক্ষণ শান্তনু কথা বলেন পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ মজুমদারের সঙ্গে। সাংসদকে কাছে পেয়ে তিনিও বেশ কয়েকটি দাবি তোলেন। পালাবদলের পর বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া রাজ্যের খাদ্য ও সমবায়মন্ত্রী হয়েছেন। অশোকের সঙ্গে শান্তনুর সম্পর্ক সাপে নেউলে। তাঁদের বিবাদ দীর্ঘদিনের।রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মতুয়াদের মধ্যে প্রভাব বাড়ানো থেকে বনগাঁর দলীয় সংগঠনে অশোকের প্রভাব বৃদ্ধি নিয়ে তাঁদের বিবাদ আরও বেড়েছে। দু’দিন আগেই একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নাম না করে খাদ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে শান্তনু বলেছিলেন, ‘শুধু সংবর্ধনা নিয়ে বেড়ালেই হবে না। মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে হবে।’ কয়েক মাস আগে স্থানীয়দের আপত্তিতে বনগাঁর বিচুলিহাটা এলাকায় একটি শৌচাগার ভেঙে দেয় পুরসভা। অভিযোগ, তার জেরে খাদ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বিজেপি কর্মীদের ধমকির মুখে পড়তে হয়েছিল পুরসভার চেয়ারম্যানকে। সেই সূত্র ধরে এ দিন শান্তনু বলেন, ‘চেয়ারম্যানকে যারা চমকাচ্ছেন, ধমকি দিয়ে যারা নিজেদের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছেন, তাদের বলব, আমি বনগাঁয় আর একটা ‘ডাকু’ তৈরি হতে দেব না।’ এখানেই থেমে না থেকে শান্তনু বলেন, ‘তৃণমূল চলে যাওয়ার পর যারা তোলাবাজি করছে, তাদের বলছি, বনগাঁয় তোলাবাজি, লুটতরাজ আমি বন্ধ করবই। তোলাবাজি নিয়ে কোনও অভিযোগ পেলে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত যাব।’
যদিও এই প্রসঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া বলেন, ‘এটা নিয়ে আমি কিছু বলব না।’ বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ মজুমদার বলেন, ‘কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। আমি চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর কাছে সিটি স্ক্যান ও আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিনের জন্য দাবি জানিয়েছি।’
