Published on
:
2 min read
এই সময়: বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা এখন ২০৯। তবে এই মুহূর্তে বিধানসভায় ‘ফ্লোর টেস্ট’ হলে তিনি ২৭৫টি ভোট পাবেন বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যা নিয়ে বঙ্গ–রাজনীতিতে শুরু হয়েছে কানাঘুষো। বলা হচ্ছে, সরাসরি কোনও শিবিরের নাম করেননি শুভেন্দু। তবে বিরোধীদের একাংশ যে তাঁকেই ফ্লোর টেস্টে সমর্থন জানাবেন, সেটাই যেন দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই তৃণমূলে ভাঙন ধরে। অভিযোগ ওঠে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা বিজেপির সুবিধে করে দিতেই তৃণমূল ভেঙেছে। যদিও ঋতব্রতরা সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বেচ্ছাচারিতা থেকে তৃণমূলকে বাঁচানোই তাঁদের আসল উদ্দেশ্য। প্রকৃত বিজেপি বিরোধী তাঁরাই। বর্তমান ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে ৬৫ জন বিধায়ক আছে বলে দাবি। এই আবহে শুভেন্দুর মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে বঙ্গ রাজনীতিতে। বুধবার বিজয়া দশমীর দিন বরাহনগরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মু্খ্যমন্ত্রী বলেন, ‘টিভি চ্যানেলের টক-শো তে এক বিজ্ঞ-জ্ঞানী তো বলেছিলেন বিজেপি ১৫০ আসনে লড়ছে। বিজেপি তো ২০৯ হয়ে গিয়েছে।’ এরপরেই তিনি বলেন, ‘কাল বিধানসভা ফ্লোরে হাউস টেস্ট হলে আমি ২৭৫টি ভোট পাব।’
২০৯ থেকে সংখ্যাটা ২৭৫ হওয়া কী ভাবে সম্ভব?
মুখ্যমন্ত্রী তার ব্যাখ্যায় বলেন, ‘ওদের (বিরোধীদের) ৬৪ জন তো আমাদের সমর্থনে হাত তোলার জন্য বসে আছে। সজল (পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষ) মজা দেখে তো হাউসের ভিতরে।’ তাঁর ইঙ্গিত ঋতব্রতদের ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের’ দিকেই বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মমতা–তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘এই বালিশ চাটা শিবির (ঋতব্রত–তৃণমূল) বিজেপির দালাল। মুখ্যমন্ত্রী জানেন, ওই শিবিরের বিধায়করা বিজেপির কাছে বিকিয়ে গিয়েছে। তাই উনি ওঁদের বিজেপিই ধরছেন। ওই বিধায়কদেরই এ বার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ শুভেন্দুকে খানিকটা চ্যালেঞ্জের সুরে কুণাল বলেন, ‘সিক্রেট ব্যালটে ফ্লোর টেস্ট করুন। তা হলে আপনার ফ্লোর টেস্টের শখ মিটে যাবে।’
এ দিকে, ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের বিধায়ক আখরুজ্জামান অস্বস্তি এড়াতে বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী কেন এ কথা বললেন তা তিনিই বলতে পারবেন। আমাদের পক্ষে আচমকা এই কথার ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব না। আমাদের সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। আমরা নিজেদের দায়বদ্ধতা থেকে কালীঘাট শিবির থেকে বেরিয়ে এসেছি। আমরা কোনওদিনই বিজেপিকে সমর্থন করব না।’ সিপিএম অবশ্য এ বিষয়ে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। শতরূপ ঘোষ সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘আদালত বলে দিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রোবেশনারি বিরোধী দলনেতা। অথচ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, এই বিরোধীরা শাসকের সঙ্গেই আছেন। আমাদের দাবি, সত্যিকারের বিরোধী বিধায়কদের মধ্যে থেকে যেন বিরোধী দলনেতা বেছে নেওয়া হয়। এই দাবি নিয়ে আমরা আদালতে যাব। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যকে রেকর্ড হিসেবে পেশ করব।’
