Published on
:
2 min read
ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট প্রয়োজন বলে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন আগেই। এর মধ্যেই রবিবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করলেন, ‘এনার্জি সিজফায়ারে রাজি হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন।’ সোজা কথায়, তেল ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা চালাবে না তারা। যদিও ট্রাম্পের এই ঘোষণায় বিস্মিত ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের মন্তব্য, ‘খবরটা আমার কাছে নতুন। ভালো লাগল।’ প্রশ্ন উঠছে, পুতিন-জ়েলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা না করেই কি এই ঘোষণা করলেন তিনি?
এ দিন ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে অবিলম্বে জ্বালানি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে।’ তাঁর দাবি, দুই পক্ষই এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি, ‘এটা ভাঙবেন না!’ তবে কত দিনের যুদ্ধবিরতি, কী ভাবে তা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প। এ নিয়ে ক্রেমলিন বা হোয়াইট হাউসের তরফেও এখনও পর্যন্ত কোনও বিবৃতি সামনে আসেনি।
পরে সংবাদমাধ্যম জ়েলেনস্কি বলেন, ‘খবরটা আমার কাছে নতুন’। তাঁর কথায়, ‘রাশিয়া যদি জ্বালানি ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়, ইউক্রেনও রাজি। যুদ্ধবিরতি কখন থেকে শুরু হবে, দয়া করে আমাদের জানান। আমরা প্রস্তুত, মেনে নেব।’ এই নিয়ে তিনি ক্যানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজ়ান্ডার স্টাবের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলার অভিযোগ তোলেন জ়েলেনস্কি। তাঁর দাবি, কিয়েভের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এর পর খারকিভের একাধিক জ্বালানি কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। জ়েলেনস্কির দাবি, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জ্বালানি যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরেই এই হামলা হয়েছে। ফলে ট্রাম্পের ঘোষিত যুদ্ধবিরতি বাস্তবে কার্যকর হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এর মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সংক্রান্ত একটি চুক্তি করেছে আমেরিকা। সেই চুক্তি অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিনিময়ে রাশিয়া আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজ়েল সরবরাহ করবে। চুক্তিটিকে ‘দুর্বল সিদ্ধান্ত’ বলে সমালোচনা করেছেন জ়েলেনস্কি। তাঁর আশঙ্কা, এতে রাশিয়া আরও বেশি করে ইউক্রেনের উপরে হামলার সুযোগ পাবে। পাল্টা ট্রাম্পের অভিযোগ, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির জন্য ইউক্রেনই দায়ী।
