প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের আগে ও পরে ১২ রাকাত সুন্নত নামাজ রয়েছে। এই নামাজগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুল (সা.) নিয়মিত এসব সুন্নত নামাজ আদায় করতেন এবং বিশেষ কারণ ছাড়া তা ছাড়তেন না। তিনি সাহাবায়ে কেরামকেও এসব নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিতেন।
উম্মে হাবিবা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দিনে ও রাতে ১২ রাকাত নামাজ আদায় করবে, জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হবে।’ সেগুলো হলো—জোহরের ফরজের আগে চার রাকাত ও পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পর দুই রাকাত, ইশার পর দুই রাকাত এবং ফজরের আগে দুই রাকাত। (তিরমিজি, হাদিস: ৪৪০)
জোহরের ফরজের আগে চার রাকাত নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা। রাসুল (সা.) এই চার রাকাত নামাজের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) জোহরের আগে চার রাকাত এবং ফজরের আগে দুই রাকাত নামাজ নিয়মিত আদায় করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৮২)
তাই জোহরের আগের চার রাকাত সুন্নত যথাসময়ে আদায়ের প্রতি যত্নবান হওয়া উচিত। সুন্নত পড়ার আগে বা নামাজ শুরু করার সময় জোহরের জামাত শুরু হয়ে গেলে সুন্নত শুরু না করে সরাসরি জামাতে শরিক হতে হবে।
তবে সুন্নত নামাজ শুরু করার পর জামাত শুরু হয়ে গেলে দুই রাকাত শেষে সালাম ফিরিয়ে জামাতে যোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর তৃতীয় রাকাত শুরু হয়ে গেলে চার রাকাত পূর্ণ করে জামাতে শরিক হতে হবে। এ ক্ষেত্রে ছোট ছোট সুরা দিয়ে দ্রুত সুন্নত শেষ করার চেষ্টা করতে হবে।
কোনো কারণে ফরজ নামাজের আগে চার রাকাত সুন্নত আদায় করা সম্ভব না হলে ফরজের পর তা আদায় করা যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে জোহরের পরের দুই রাকাত সুন্নত আদায় করতে হবে। এরপর আগে ছুটে যাওয়া চার রাকাত সুন্নত পড়তে হবে। রাসুল (সা.) এভাবে আদায় করতেন বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) জোহরের আগে চার রাকাত সুন্নত পড়তে না পারলে ফরজের পর দুই রাকাত সুন্নত আদায়ের পর তা পড়ে নিতেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১১৫৮)
