ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহকেন্দ্রসহ আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত দুজন নিহত এবং ২১ জন আহত হয়েছেন। হামলার পর কিয়েভের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। খবর বিবিসির।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দারনিতস্কা সিএইচপি-৪ বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কেন্দ্রটি কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ করে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৩ অক্টােবর) গভীর রাতে আবাসিক ভবনে হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। শহরের আরও কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনাও আক্রান্ত হয়েছে।
আজ বুধবার (১৪ অক্টােবর) ভোরে ক্লিচকো জানান, ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিয়েভের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারির পর বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দিয়েছিল। কিন্তু রাশিয়া আবারও বিদ্যুৎকেন্দ্র ও মানুষের জীবনকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তার অভিযোগ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়ে ইউক্রেন আগাম সতর্কতাও পাচ্ছে না। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের সমঝোতার কথা বলার দুই দিন পরও কিয়েভে হামলা অব্যাহত রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করেছে—এমন জল্পনা নাকচ করে ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন কিয়েভকে সহায়তা করছে এবং যুদ্ধ শেষ করতে উভয় পক্ষের সঙ্গে কাজ করছে।
এদিকে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনার জন্য বুধবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকের কথা রয়েছে।
দারনিতস্কা সিএইচপি-৪ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এর আগেও একাধিকবার রুশ হামলার শিকার হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেন্দ্রটি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় এক হাজারের বেশি আবাসিক ভবন, ৪৭টি স্কুল, ৭২টি কিন্ডারগার্টেন ও ১৮টি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে তাপ ও গরম পানির সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল।
