
ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে থেকে সকলকে দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসতে হবে: ডেপুটি স্পিকার
ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহমর্মিতার বন্ধন অটুট রেখে দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরসভার রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী কুমারী পূজা পরিদর্শনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
দুর্গাপুর রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম মন্দিরে ১৯৩৬ সাল থেকে প্রতি বছর মহানবমী তিথিতে ঐতিহ্যবাহী কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। দীর্ঘদিনের এ ধর্মীয় আয়োজনকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে রয়েছে বিশেষ আবেগ, শ্রদ্ধা ও উৎসাহ। পূজার আনুষ্ঠানিকতায় দেবী দুর্গার প্রতীক হিসেবে একজন কুমারী শিশুকে দেবীর আসনে বসিয়ে পূজা-অর্চনা করা হয় এবং দেশ ও জাতীর কল্যানে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
এ বছর কুমারী পূজার আসনে বসানো হয় ১১ বছর বয়সী শ্রাবন্তী বিশ্বাসকে। সে বিশ্ব কুমার বিশ্বাস ও রিপা রানী বিশ্বাসের সন্তান। তার গ্রামের বাড়ি উল্লাপাড়া ইউনিয়নে। শ্রাবন্তী বর্তমানে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। পূজাকে কেন্দ্র করে মন্দির প্রাঙ্গণে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
কুমারী পূজা পরিদর্শনকালে ডেপুটি স্পিকার মন্দিরের কর্তৃপক্ষ, মাতৃমণ্ডলী ও উপস্থিত ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের সৌন্দর্য ও শক্তি নিহিত রয়েছে। মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন আছে বলেই বাংলাদেশ এতো সুন্দর।
তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ ধর্মীয় রীতিনীতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। গারো, হাজং, হিন্দু, মুসলমান ও খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত উপস্থিতি এ জনপদকে বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধ করেছে। প্রত্যেকের ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, নাগরিক পরিচয় কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়নি। আমরা সবাই এ দেশমাতৃকার সন্তান, বাংলাদেশের নাগরিক। তাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
ধর্মীয় সম্প্রীতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক ধর্মই মানুষকে নৈতিকতা, মানবিকতা, ভালোবাসা ও কল্যাণের শিক্ষা দেয়। মুসলমানরা রোজা ও ঈদ উদযাপন করেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূজা-অর্চনায় অংশ নেন এবং খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ বড়দিন উদযাপন করেন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ভিন্নতা থাকলেও মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও কল্যাণের বার্তা সব ধর্মেই রয়েছে। এসব মানবিক শিক্ষা বাস্তব জীবনে ধারণ করতে পারলে সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে।
এ সময় মাতৃমণ্ডলীর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনি সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানো এবং সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একটি শিশুর বেড়ে ওঠা ও শিক্ষাজীবনে মায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষিত মা একটি শিক্ষিত পরিবার এবং একটি শিক্ষিত জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ
অবদান রাখেন। শিক্ষিত ও সচেতন জাতিই বিশ্বদরবারে মর্যাদার সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।
এসময়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ সাদাত, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল ইসলাম আলম ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার, রামকৃষ্ণ আশ্রমের সভাপতি অ্যাডভোকেট মানেশ চন্দ্র সাহা, উপজেলা জাতীয়তাবাদী পূজা ফ্রন্ট এর সভাপতি সাবেক মেয়র শুভেন্দু সরকার পিন্টু, দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ সহ মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য, ভক্তবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।
