কালবেলা · আন্তর্জাতিক
ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লন্ডনে আজানের সম্মিলিত ধ্বনি
১৮/১০/২০২৬

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে একটি বিশেষ শব্দভিত্তিক শিল্পকর্মে একসঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে মক্কা, জেরুজালেম, সিঙ্গাপুর, খার্তুমসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের আজান।
‘কসমিক ব্রেথ’ নামের এই শিল্পকর্মে ঐতিহাসিক ও সমসাময়িক আজানের রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি, মানুষের সংযোগ ও প্রতিবাদের গল্প তুলে ধরেছেন লেবানিজ বংশোদ্ভূত মার্কিন শিল্পী ও সুরকার জো নামি। শনিবান (১৭ অক্টোবর) আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রিটের কাছাকাছি ইব্রাজের ‘মুসাল্লা’ নামের একটি স্থানে স্থাপনাটি প্রদর্শিত হচ্ছে। এখানে বিভিন্ন হর্ন স্পিকারের মাধ্যমে একসঙ্গে একাধিক আজানের রেকর্ডিং শোনানো হয়। নামাজের সময় শব্দের মাত্রা বাড়ানো হয়, যাতে পুরো কক্ষে আজানের ধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে।
২০২৩ সালে সৌদি আরবের জেদ্দায় ইসলামিক আর্টস বিয়েনালের জন্য প্রথম এই শিল্পকর্ম তৈরি করা হয়। স্থাপনাটির স্থানিক নকশায় সহযোগিতা করেন স্থপতি ও শিল্পনির্দেশক সুমাইয়া ভ্যালি।
জো নামির মতে, শব্দ মানুষের জীবন, সমাজ ও আধ্যাত্মিকতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পৃথিবীর কোনো না কোনো স্থানে প্রতিনিয়ত আজান হচ্ছে এই ভাবনা থেকেই শিল্পকর্মটির ধারণা আরও গভীর হয়েছে। তার ভাষায়, বিভিন্ন দেশের আজানের স্বতন্ত্র সুর, উচ্চারণ ও পরিবেশের মধ্য দিয়ে মানুষের বিশ্বাসের বৈচিত্র্য ফুটে ওঠে।
এই প্রদর্শনীতে রয়েছে ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় লন্ডনের ওয়ালথামস্টো এলাকায় প্রচারিত আজানের রেকর্ডিংও। সামাজিক দূরত্বের কারণে মানুষ যখন একত্র হতে পারছিল না, তখন এই আজান স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সংযোগের অনুভূতি তৈরি করেছিল।
শিল্পকর্মটিতে মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে উনিশ শতকের শেষভাগের বলে বিবেচিত একটি ঐতিহাসিক রেকর্ডিং, জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ, সিঙ্গাপুরের সুলতান মসজিদ এবং সুদানের খার্তুমের আজানও রয়েছে। পাশাপাশি জর্জিয়ার তিবলিসি, ফিলিপাইন, জাপান ও আলজেরিয়ার সাহারাউই শরণার্থীশিবিরের রেকর্ডিং স্থান পেয়েছে।
‘কসমিক ব্রেথ’-এর ধারণার পেছনে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি প্রতিবাদও। ২০২০ সালে ডারবানে প্রকাশ্যে আজান প্রচারে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি জানিয়ে একটি আন্তধর্মীয় কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
করোনা বিধিনিষেধের কারণে মানুষ গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হন এবং গাড়ির স্পিকারে আজান বাজান। সেই সম্মিলিত ধ্বনির রেকর্ডিং থেকেই শিল্পকর্মটির প্রাথমিক ভাবনা তৈরি হয়।
নামির মতে, লন্ডনের বর্তমান সামাজিক পরিবেশে এই শিল্পকর্ম ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি নিয়ে ভাবনার পাশাপাশি মানুষের জন্য শান্তি ও সংযোগের একটি পরিসর তৈরি করছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
মূল প্রতিবেদনে যান ↗