Published on
:
2 min read
বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ফ্রান্সের সরকার। তার পরেও কমছে না বিক্ষোভের আঁচ। শনিবার, নতুন করে বিক্ষোভ দেখানো হয় ফ্রান্সে। তা সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় ৭০ হাজার পুলিশ এবং নিরাপত্তাকর্মী। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বন্ধ করে দেওয়া হয় লুভ্যর-সহ একাধিক মিউজ়িয়াম। তার পরেও এই দিন বিক্ষোভ সামাল দিতে হিমসিম খেতে হয় পুলিশকে। বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণ করতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং জলকামান ব্যবহার করে।
সেপ্টেম্বর থেকে ফ্রান্সের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এই আন্দোলন শুরু করেছিল স্কুল পড়ুয়ারা। পরে তা আরও ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভ দেখানোর সময়ে চলছে অবাধ লুটপাট। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে একাধিক সরকারি অফিসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশের বিভিন্ন শহরে আংশিক কার্ফু জারি করেছে ফ্রান্স প্রশাসন। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার কথা জানিয়েছে সেখানকার সরকার। তবে এই হুঁশিয়ারির পরে শনিবারও সেখানে দেখানো হয় বিক্ষোভ।
এদিন এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আগের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার বেশি নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়। সেই সঙ্গে প্যারিসে বন্ধ করে দেওয়া হয় ল্যুভর, ওর্সে, পিকাসো এবং গ্রঁ পালে মিউজ়িয়াম। নিরাপত্তার কারণে বন্ধ রাখা হয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং দোকান। গত সপ্তাহে বিক্ষোভ দেখানোর সময়ে সরকারি অফিসের পাশাপাশি ভাঙচুর এবং লুটপাট করা হয় প্রায় ৩ হাজার দোকান এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। প্যারিসে বন্ধ করে দেওয়া হয় ২০টির বেশি মেট্রো স্টেশনও। নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। জারি করা হয় একাধিক নিষেধাজ্ঞা বিধিনিষেধ।
সেই সমস্ত বিধিনিষেধ উপেক্ষা করেই এই বিপুল সংখ্যক মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন । ফ্রান্সের রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকা এড়িয়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে নির্ধারিত পথে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। তাদের সামাল দিতে ব্যবহার করা হয় কাঁদানে গ্যাস।
ফরাসি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যারিস ছাড়াও লিওঁ, ক্লেরমঁ-ফেরাঁ ও স্ত্রাসবুর্গ শহরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। নিস ও নঁতে শহরে ব্যবহার করা হয় জলকামান। মার্সেই শহরে মিছিলের শেষ প্রান্তের কাছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হলে সেখানেও কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। এ দিন গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬৪ জনকে।
এর পরেও থেমে থাকতে রাজি নন বিক্ষোভকারীরা। আগামী ৩১ অক্টোবর ফের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সংগঠকরা। সেই দিনও নিরাপত্তার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে ফ্রান্সের সরকার।
