প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়াই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলের গবেষণা সংস্থা গুগল ডিপমাইন্ড। নতুন ‘পোলারিস’ দলের জন্য এআই কোডিং এজেন্টের কার্যকারিতা মূল্যায়নে একটি কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে দক্ষ প্রকৌশলী নিয়োগ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
এসব পদের জন্য বার্ষিক সর্বোচ্চ ১১ লাখ মার্কিন ডলার বেতনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ কোটি টাকার সমপরিমাণ হতে পারে। তবে প্রকৃত বিনিময়মূল্য ডলারের হারের ওপর নির্ভর করবে।
সাধারণত উচ্চ বেতনের প্রযুক্তিনির্ভর চাকরিতে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ও শিক্ষাগত যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে গুগল ডিপমাইন্ডের এই নিয়োগে আনুষ্ঠানিক ডিগ্রিকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি। বরং জটিল প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধান এবং বাস্তব কাজের মাধ্যমে দক্ষতা প্রমাণ করতে পারেন, এমন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
নতুন এআই দলে কাজের সুযোগ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গুগল ডিপমাইন্ডের পক্ষ থেকে প্রকৌশলীদের নতুন দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই দলের সদস্যরা নতুন প্রোটোটাইপ তৈরি এবং গবেষণার ফলাফল প্রকাশের কাজে যুক্ত হতে পারবেন।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রকৌশলীদের অন্যতম দায়িত্ব হবে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে গুগলের জেমিনাই এআই মডেলের সক্ষমতা যাচাই করা। পাশাপাশি মডেলটির প্রশিক্ষণ-সংক্রান্ত তথ্য ও মূল্যায়নপ্রক্রিয়া উন্নত করতেও কাজ করতে হবে।
গুগল ডিপমাইন্ডের গবেষণা বিজ্ঞানী তামে বেসিরোগলুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নতুন দলে দক্ষ প্রকৌশলী নেওয়া হচ্ছে, যাদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়। প্রার্থীদের বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং কঠিন সমস্যার সমাধান করার সামর্থ্যই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বোনাস ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাসহ বার্ষিক মোট পারিশ্রমিক সাড়ে পাঁচ লাখ থেকে ১১ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
যেসব যোগ্যতা থাকতে হবে প্রার্থীদের
আনুষ্ঠানিক ডিগ্রি না চাওয়া হলেও এই পদে আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট কিছু দক্ষতা প্রয়োজন। প্রার্থীদের সফটওয়্যার তৈরি বা প্রোগ্রামিংয়ে অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি এআই-নির্ভর কোডিং টুল এবং বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) ব্যবহার করে কাজ করার দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ, হ্যাকাথনে অভিজ্ঞতা এবং নতুন প্রযুক্তি দ্রুত শিখে কাজে লাগানোর সক্ষমতাকে বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।
অর্থাৎ, শুধু শিক্ষাগত সনদ নয়, বরং বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতার মাধ্যমে প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
ডিগ্রির বদলে দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রশংসা
গুগল ডিপমাইন্ডের এই নিয়োগ উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অনেক ব্যবহারকারীর মতে, চাকরির ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি প্রার্থীর প্রকৃত দক্ষতা ও কাজের সক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ডিগ্রির বাধ্যবাধকতা না রেখে মেধা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা যাচাই করে নিয়োগ দেওয়ার পদ্ধতি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেরও অনুসরণ করা উচিত।
প্রযুক্তি খাতে এ ধরনের নিয়োগ উদ্যোগ দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থানের গুরুত্বকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে এআই ও সফটওয়্যার উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সক্ষমতাও যে গুরুত্বপূর্ণ, তা আবারও আলোচনায় এসেছে।
সূত্র: এনডিটিভি