একটি নিখুঁত পাস, সতীর্থের দুর্দান্ত ফিনিশিং আর শেষ পর্যন্ত জয়। লিওনেল মেসি গোল না করলেও তাঁর পায়ের জাদুতে বদলে গেল ম্যাচের চিত্র। মাঠে গোল করার পাশাপাশি গোল বানিয়েও যে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়া যায়, সেটিই আরেকবার দেখালেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তাঁর অ্যাসিস্টে গোলের দেখা পেল ইন্টার মিয়ামি। নিউইয়র্ক সিটি এফসিকে হারিয়ে ২০২৬ মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) প্লে-অফও নিশ্চিত করল দলটি।
নিজেদের মাঠ নু স্টেডিয়ামে আজ (১৫ অক্টোবর) সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নিউইয়র্ক সিটি এফসিকে ২-০ গোলে হারিয়েছে মিয়ামি। স্বাগতিকদের হয়ে গোল করেছেন জেরমান বেরতেরেম ও রদ্রিগো দি পল।
ম্যাচের ২০ মিনিটে লুইস সুয়ারেজের পাস থেকে গোল করে মিয়ামিকে এগিয়ে দেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার বেরতেরেম। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দি পল। বক্সের সামনে থেকে তার নেওয়া দুর্দান্ত শটের আগে ডান প্রান্ত থেকে বল বাড়িয়ে দেন মেসি। এই অ্যাসিস্টের মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ারে ৪২৭তম গোলের সহায়তা করলেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকা।
গোল না করেও ম্যাচে নিজের প্রভাব রেখেছেন মেসি। চলতি মৌসুমে এমএলএসের গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়েও সবার ওপরে রয়েছেন তিনি। লিগে ২৫ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ২৩। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩১ ম্যাচে করেছেন ২৭ গোল। গোল করানোর হিসাবেও পিছিয়ে নেই এই আর্জেন্টাইন। এমএলএসে চলতি মৌসুমে ১৪টি অ্যাসিস্ট নিয়ে সান ডিয়েগোর উইঙ্গার আন্দের্স দ্রেয়ারের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন তিনি।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে ৩১ ম্যাচে ৪১ গোলে অবদান রেখেছেন মেসি। বয়স ৩৯-এর কাছাকাছি পৌঁছালেও মাঠে তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে ভাটা পড়েনি। কখনো গোল করে, কখনো সতীর্থকে দিয়ে গোল করিয়ে মিয়ামির আক্রমণভাগকে সচল রাখছেন তিনি।
অন্যদিকে ম্যাচের শেষ দিকে গোলের সুযোগ পেয়েছিল নিউইয়র্ক সিটি এফসি। পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমানোর সুযোগ তৈরি হলেও মিয়ামির গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট ক্লেয়ার দুর্দান্ত সেভ করে প্রতিপক্ষকে হতাশ করেন। ফলে গোল হজম না করেই মাঠ ছাড়ে মিয়ামি।
এই জয়ে ২৯ ম্যাচে ৫২ পয়েন্ট নিয়ে এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মিয়ামি। সমান ম্যাচে ৬৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ন্যাশভিল। হাতে এখনো পাঁচটি ম্যাচ বাকি থাকতেই প্লে-অফের রাউন্ড নিশ্চিত করেছে মেসির দল।
২০২৩ সালে মেসি যোগ দেওয়ার পরও প্রথম মৌসুমে প্লে-অফে জায়গা করে নিতে পারেনি মিয়ামি। তবে এরপর থেকে টানা প্রতিটি মৌসুমেই এই প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে তারা।
গত মাসে মিয়ামির। কোচের দায়িত্ব নেওয়া কিলি গঞ্জালেসের অধীনেও ছন্দ ধরে রেখেছে দলটি। তার অধীনে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নেওয়ার পর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টাইন কোচ। তিনি বলেন, ‘সন্তুষ্টচিত্তে মাঠ ছাড়ছি। অবশ্যই উন্নতির অনেক জায়গা আছে, তবে আমরা ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি।’
