Published on
:
2 min read
এই সময়, বালুরঘাট: এক পাড়ে ঘরবাড়ি। অন্য পাড়ে স্কুল, বাজার, হাসপাতাল। মাঝে কাশিয়া খাঁড়ি। সেই খাঁড়িই যেন বালুরঘাট শহর লাগোয়া ২ নম্বর জলঘর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাশিয়াডাঙার ছোট দেউড়া গ্রামের প্রায় তিন হাজার বাসিন্দার উন্নয়নে সবচেয়ে বড় 'দেওয়াল'। বর্ষায় খাঁড়িতে জল বাড়লে নৌকোই একমাত্র ভরসা। শীতে জল কমলে বাঁশের সাঁকো, কখনও আবার চাটাই পেতে তৈরি করা হয় অস্থায়ী পথ। খাঁড়ি পেরোতে না-পারলে ১০-১২ কিলোমিটার ঘুরপথে যাতায়াত করতে হয়। দীর্ঘদিনের এই যন্ত্রণা থেকে এ বার মুক্তি চান এখানকার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, এ বার সেতু তৈরি করা হোক দীর্ঘ দিনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে।
তপন বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত ওই গ্রামে তিন হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। তাঁরা জানান, সেতুর জন্য একাধিকবার প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে দরবার করেছেন। একাধিকবার মাটি পরীক্ষা হয়েছে। মাপা হয়েছে জায়গাও। কিন্তু তার পরেও সেতুর দেখা মেলেনি। বছরের পর বছর ধরে নৌকো এবং অস্থায়ী বাঁশের সাঁকোর উপরেই নির্ভর করে যাতায়াত করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। বাসিন্দারা জানান, কাশিয়া খাঁড়ির উপরে সেতু তৈরি হলে শুধু ছোটদেউড়া নয়, সুলতানপুর, গোপালনগর, চকবলিরাম-সহ আশপাশের একাধিক গ্রামের প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন। বালুরঘাটে হাট-বাজার, চিকিৎসা, স্কুল-কলেজ কিংবা নিত্যপ্রয়োজনে তাঁদের আর ১০ কিলোমিটার ঘুরপথে যাতায়াত করতে হবে না।
স্থানীয় মাঝি নেপাল সরকার বলেন, 'বছরের ছ'সাত মাস ওই খাঁড়ি পেরোনোর একমাত্র ভরসা নৌকো। রাত ন'টার পরে আর নৌকো চালাই না। রাতে কোনও রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হলে নিয়মের তোয়াক্কা না-করে গ্রামবাসীরাই নৌকো নিয়ে খাঁড়ি পারাপার করেন। এতে জীবনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা পরেশ সরকারের কথায়, 'একাধিকবার প্রশাসনের তরফে মাপজোঁক করা হয়েছে। নেতা-মন্ত্রী থেকে আমলা-হেন কোনও আধিকারিক নেই, যাঁকে বিষয়টি জানানো হয়নি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কাজের কাজ কিছুই হলো না।' বিষয়টি নিয়ে তপনের বিজেপি বিধায়ক বুধরাই টুডু বলেন, 'এই সমস্যার কথা আমরা জানি। যত শিগগিরই সম্ভব ওই খাড়ির উপরে সেতু নির্মাণের চেষ্টা করা হবে।'
