চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে কেনাকাটার অজুহাতে বিভিন্ন দোকানে জাল নোট সরবরাহ করার সময় স্থানীয় জনতা ও জনপ্রতিনিধির সহায়তায় চার নারী কারবারিকে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ১ হাজার ও ৫০০ টাকা মূল্যের বেশ কিছু জাল নোট জব্দ করা হয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের গল্লাক বাজারের কয়েকটি দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃত চার নারী হলেন- ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের বেপারি বাড়ির মিন্টু বেপারির স্ত্রী আমেনা বেগম (২৮), ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম পোয়া গ্রামের আবদুল মালেকের স্ত্রী হাসিনা আক্তার (৩০), একই এলাকার আনোয়ার গাজীর স্ত্রী পাখি বেগম (৩৮) এবং গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের প্রত্যাশী গ্রামের মৃত ইলিয়াস মিয়াজী বা মুন্সীর স্ত্রী শিল্পী বেগম (৪৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাত আটটার দিকে ওই চার নারী সংঘবদ্ধভাবে গল্লাক বাজারের একাধিক দোকানে ক্রেতা সেজে প্রবেশ করেন। তাঁরা কম মূল্যের খুচরা পণ্য কিনে ১ হাজার টাকার জাল নোট প্রদান করেন এবং বিনিময়ে আসল টাকাগুলো ক্যাশ থেকে ভাংতি হিসেবে বুঝে নেন।
পরবর্তীতে এক ব্যবসায়ীর মনে সন্দেহ জাগলে তিনি নোটটি ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখতে পান যে, একই সিরিয়াল নম্বরযুক্ত (ক-ছ ৭৭৬৭০৮২) একাধিক ১ হাজার টাকার নোট দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে বাজারে হইচই পড়ে যায় এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ও সাধারণ জনতা একত্রিত হয়ে চার নারীকে আটক করে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যান।
গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান পাটওয়ারী জানান, বাজারে কেনাকাটার নামে প্রতারণা করে জাল টাকা ছড়ানোর সময় জনতা তাঁদের আটক করে পরিষদে নিয়ে আসে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হলে পুলিশ এসে তাঁদের হেফাজতে নেয়।
সংবাদ পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক চার নারীকে গ্রেপ্তার করেন এবং প্রাথমিক তল্লাশিতে উদ্ধারকৃত জাল নোট জব্দ করেন।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আল আমীন তালুকদার জানান, গল্লাক বাজারের ব্যবসায়ীদের সহায়তায় জাল টাকাসহ চার নারীকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ১ হাজার টাকার নোটগুলোতে একই সিরিয়াল নম্বর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই জাল নোট চক্রের সঙ্গে অন্য কোনো শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত আছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ ব্যাপক তদন্ত চালাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বাজারে সক্রিয় রয়েছে। এদের মূল হোতাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা।
জেএইচআর
