ডাস্ট মাইট কী এবং কোথায় থাকে?
ডাস্ট মাইট মাকড়সার আত্মীয় অতি ক্ষুদ্র এক ধরনের জীব। এরা সাধারণত ঘরের ধুলাবালিতে বসবাস করে এবং মানুষের ঝরে পড়া মৃত ত্বকের ক্ষুদ্র কণা খেয়ে বেঁচে থাকে। উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে এরা তুলনামূলক ভালোভাবে বংশবিস্তার করতে পারে। এ কারণে বিছানার চাদর, বালিশ, কম্বল, গদি, কার্পেট, পর্দা ও কাপড়ের তৈরি আসবাবপত্রে এদের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়।
অনেকেই মনে করেন, ঘর পরিষ্কার রাখলেই ডাস্ট মাইটের সমস্যা পুরোপুরি দূর হয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবে শুধু দৃশ্যমান ধুলা পরিষ্কার করলেই এদের অ্যালার্জেন দূর করা সম্ভব হয় না। গদি, বালিশ ও ভারী কাপড়ের গভীরে এদের দেহাবশেষ ও মল জমে থাকতে পারে। ফলে ঘর পরিষ্কার করার পরও কারও কারও অ্যালার্জির উপসর্গ থেকে যায়।
ডাস্ট মাইট সাধারণত মানুষের ত্বকের ভেতরে প্রবেশ করে না বা রক্ত শোষণ করে না। এদের দেহাবশেষ ও মলের ক্ষুদ্র কণা বাতাসে মিশে শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
কেন হয় অ্যালার্জি?
মানুষের রোগপ্রতিরোধব্যবস্থা সাধারণত ক্ষতিকর জীবাণু ও বাইরের বিপজ্জনক উপাদান থেকে শরীরকে রক্ষা করে। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নিরীহ উপাদানকেও শরীর ক্ষতিকর হিসেবে শনাক্ত করে। ডাস্ট মাইটের অ্যালার্জেনের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে। সংবেদনশীল ব্যক্তির শরীরে এসব অ্যালার্জেন প্রবেশ করলে রোগপ্রতিরোধব্যবস্থা অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায়। এর ফলে হিস্টামিনসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত হয়ে হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ চুলকানো ও শ্বাসনালিতে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
তবে ঘরের ধুলাবালিতে শুধু ডাস্ট মাইটই থাকে না। ছত্রাকের কণা, পোষা প্রাণীর ঝরে পড়া লোম ও ত্বকের কণা, পরাগরেণু এবং অন্যান্য উপাদানও অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। তাই ধুলাবালির সংস্পর্শে উপসর্গ দেখা দিলেই সেটিকে ডাস্ট মাইট অ্যালার্জি বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না।
যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন
ডাস্ট মাইট অ্যালার্জির সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো বারবার হাঁচি, নাক দিয়ে স্বচ্ছ পানি পড়া, নাক চুলকানো এবং নাক বন্ধ হয়ে থাকা। বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর, বিছানা গোছানোর সময় কিংবা ঘর পরিষ্কার করার সময় এসব উপসর্গ বাড়তে পারে। কারও কারও নাকের ভেতরে অস্বস্তি, গলায় শ্লেষ্মা জমার অনুভূতি কিংবা কাশিও দেখা দেয়।
চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চোখ চুলকানো, পানি পড়া এবং চোখের পাতায় অস্বস্তিও অ্যালার্জির লক্ষণ হতে পারে। আবার কারও ত্বকে চুলকানি, শুষ্কতা কিংবা একজিমার উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে। তবে ডাস্ট মাইট অ্যালার্জি হলেই ত্বকে ফুসকুড়ি হবে, এমন নয়।
অ্যালার্জেন শ্বাসতন্ত্রকে প্রভাবিত করলে কাশি, বুক ভার হয়ে থাকা, শ্বাস নেওয়ার সময় সাঁই সাঁই শব্দ এবং শ্বাসকষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের হাঁপানি রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ডাস্ট মাইটের সংস্পর্শে হাঁপানির উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে। রাতে বা ভোরের দিকে কাশি বাড়লে কিংবা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
পরিবারে অ্যালার্জি, হাঁপানি বা একজিমার ইতিহাস থাকলে কারও অ্যালার্জিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি হতে পারে। তবে পারিবারিক ইতিহাস না থাকলেও ডাস্ট মাইট অ্যালার্জি হতে পারে। ঘরের ভেতরে দীর্ঘ সময় কাটানো, আর্দ্র পরিবেশে বসবাস এবং বিছানাপত্রে জমে থাকা অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে আসার কারণে উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
শিশুদের ক্ষেত্রে বারবার হাঁচি, নাক বন্ধ থাকা, রাতে কাশি কিংবা ঘুমের সমস্যা দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। একইভাবে বয়স্ক ব্যক্তি এবং আগে থেকেই শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় ভুগছেন, এমন ব্যক্তিদেরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
ঘর পরিষ্কার রাখাই প্রতিরোধের প্রথম ধাপ
ডাস্ট মাইট অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অ্যালার্জেনের সংস্পর্শ যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা। এ জন্য বিছানার চাদর, বালিশের কভার ও কম্বল নিয়মিত ধুতে হবে। কাপড়ের উপযোগিতা অনুযায়ী গরম পানিতে ধোয়া এবং ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া উপকারী হতে পারে। গদি ও বালিশে অ্যালার্জেন প্রতিরোধী কভার ব্যবহার করলেও উপকার পাওয়া যায়।
ঘর পরিষ্কারের সময় শুকনো কাপড় দিয়ে ধুলা ঝাড়লে তা বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই ভেজা কাপড় দিয়ে ধুলা মোছা এবং সম্ভব হলে ভালো মানের ফিল্টারযুক্ত ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করা ভালো।
চিকিৎসা কীভাবে হয়?
ডাস্ট মাইট অ্যালার্জির চিকিৎসা নির্ভর করে উপসর্গের ধরন, তীব্রতা এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর। চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ ও রোগের ইতিহাস পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে অ্যালার্জি পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন।
