অপারেশন ক্লিনহার্ট পরিচালনার কোনো ধরনের পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনসে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। এ সময় তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, দেশের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতিতে সরকারের সামনে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ নেই।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিরোধী দলের চলমান রাজনৈতিক আন্দোলন এবং আগামী ডিসেম্বর মাস ঘিরে সম্ভাব্য নাশকতার গুঞ্জন রয়েছে কি না—এমন নানা বিষয়ে সাংবাদিকরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে অপারেশন ক্লিনহার্ট চালুর কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ প্রতিটি বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সরকারের সামনে কোনো চ্যালেঞ্জ দেখছেন না বলেও জানান তিনি।
খুলনা অঞ্চলে পুলিশের ভেতরে বিরাজমান আতঙ্ক এবং চট্টগ্রামে প্রভাবশালী মহলের চাপে পুলিশ আসামি গ্রেপ্তারে পিছু হটছে কি না—এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, অপরাধ দমনের কাজে নামলে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মাঝেমধ্যে হামলার শিকার হতে হয়, যা নতুন কোনো ঘটনা নয়। অপরাধীদের কঠোরহস্তে দমনে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ যখন আসামি গ্রেপ্তার করতে যায়, তখন যদি কেউ তাদের কাজে বাধা দেয় বা আসামিদের সহায়তা করে, তবে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে সেই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে এই মতবিনিময়ের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিআইডির নবপ্রতিষ্ঠিত সাইবার পুলিশ সেন্টার ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি জানান, কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের সরকার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা 'কোইকা'র আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় এই আধুনিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই বিশেষ উদ্যোগে সহযোগিতার জন্য তিনি কোরীয় সরকার, বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত, কোইকার প্রতিনিধি এবং সফররত সকল প্রতিনিধিদলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
প্রতিষ্ঠার পেছনের পটভূমি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুরু থেকেই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি বিশেষায়িত পুলিশ সাইবার ইউনিট প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল। সেই ধারাবাহিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১ অক্টোবর থেকে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে এই ইউনিটটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। সরকারের প্রত্যাশা, এই সর্বাধুনিক সাইবার ইউনিট ভবিষ্যতে ডিজিটাল ও সাইবার অপরাধ দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা এবং সংশ্লিষ্ট জটিল অপরাধের তদন্তে বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।
