নারকেল খাওয়ার পর বাড়তি হয়ে যায় খোলাটা। তার আর কী কাজ? তাই ব্যবহৃত নারকেলের খোলাটির জায়গা হয় ডাস্টবিনে। কিন্তু জানেন কি, যদি বাগান করার শখ থাকে, তবে সেখানে রীতিমতো কার্যকর হয়ে উঠবে এই শুকনো খোলা। এক্কেবারে পরিবেশবান্ধব, ফলে নষ্ট হয়ে গেলেও আবর্জনা বাড়ায় না। কীভাবে কাজে লাগাবেন? জেনে নেওয়া যাক।
১। ছোট গাছের জন্য টব হিসেবে
ছোট্ট মানিপ্ল্যান্ট, সাকুলেন্ট কিংবা ধীরে বেড়ে ওঠা কোনও চারাগাছ লাগানোর জন্য নারকেলের খোলা ব্যবহার করতে পারেন। প্রথমে খোলার ভিতরের অংশ ভাল করে পরিষ্কার করে নিন। তার পর নীচে কয়েকটি ছোট ছিদ্র করে, উপরে মাটি ভরে গাছ লাগিয়ে দিন। এই ধরনের প্রাকৃতিক টব বারান্দার বাগানেও দেখতে বেশ সুন্দর লাগে।
২। পাখিদের জন্য জলের পাত্র
বাগানে পাখিদের আনাগোনা লেগেই থাকে। নারকেলের খোলা দিয়ে তৈরি করতে পারেন ছোট্ট জলের পাত্র। খোলাটি ভাল করে পরিষ্কার করে তাতে জল রাখুন। বাগানের নিরাপদ জায়গায় বা গাছের ডালে এমন ভাবে সেটা বসিয়ে দিন, যাতে পাখিরা সহজেই পৌঁছতে পারে। তবে জল নিয়মিত বদলাতে হবে এবং পাত্রটি পরিষ্কার রাখতে হবে, নয়তো মশা বা জীবাণুর বংশবিস্তার হতে পারে।

৩। বাগানের সাজসজ্জায় ব্যবহার
বাগান সাজাতে সব সময় দামি জিনিস কেনার প্রয়োজন নেই। নারকেলের খোলা দিয়েই তৈরি করতে পারেন ছোট্ট শোপিস বা ঝুলন্ত ডেকর। চাইলে খোলার বাইরের অংশে নিজের পছন্দমতো নকশাও করতে পারেন। তবে রং ব্যবহার করলে গাছের মাটি বা জলের সংস্পর্শে আসতে পারে এমন অংশে বিষাক্ত রং এড়িয়ে চলুন।
৪। গাছের চারপাশে মালচিং
গাছের গোড়ার মাটিতে আর্দ্রতা ধরে রাখতে মালচিং বেশ কার্যকর। নারকেলের শক্ত খোলা ছোট ছোট টুকরো করে গাছের চারপাশে ছড়িয়ে দিন। তবে খোলা খুব শক্ত হওয়ায় কাটার সময় সতর্ক থাকতে হবে। এতে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে কিছুটা সাহায্য হতে পারে। খেয়াল রাখবেন, খোলার টুকরো যেন গাছের কাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি ঠেস দিয়ে না থাকে।

৫। উপকারী পতঙ্গের আশ্রয় হিসেবে
বাগানে জীববৈচিত্র্য বাড়াতে নারকেলের খোলা ব্যবহার করতে পারেন। খোলার ভিতরের অংশ পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিন। তার পর বাগানের নিরিবিলি, বৃষ্টির সরাসরি জল থেকে কিছুটা সুরক্ষিত জায়গায় এটি রাখতে পারেন। আপনার অজান্তেই হয়তো তা হয়ে উঠবে বাগানের উপকারী পতঙ্গদের বাসা। তবে তা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে আর এমন কোনও রাসায়নিক ব্যবহার করলে চলবে না, যা তাদের ক্ষতি করতে পারে।
