দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটি চলছে। তবে দীর্ঘ এই ছুটিতেও রাজধানীতে ব্যাংকের এটিএম বুথগুলোতে গ্রাহকদের তেমন কোনো ভিড় বা চাপ দেখা যায়নি। অতীতে এ রকম ছুটির দিনগুলোতে বুথে দীর্ঘ লাইন, যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা নগদ অর্থের সংকট দেখা গেলেও এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নির্দেশনার ফলে বুথগুলোতে পর্যাপ্ত টাকা রাখা ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন, যাত্রাবাড়ী ও সায়দাবাদ এলাকা ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। তবে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকের কার্ডধারীদের টাকা তুলতে কিছু ব্যাংকের বাধা রয়েছে। কিছু ব্যাংকের বুথে তাদের গ্রাহক ছাড়া অন্য ব্যাংকের কার্ডধারীরা টাকা তুলতে পারছেন না। আবার কিছু ব্যাংকের বুথে রাত ৯টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত টাকা তুলতে পারছেন অন্য ব্যাংকের কার্ডধারীরা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটা করা হয়েছে যাতে করে এক ব্যাংকের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়। কারণ যে এলাকার বুথ সেই এলাকায় তাদের গ্রাহক সংখ্যা এবং গ্রাহকদের চাহিদার আলোকে ব্যাংকগুলো টাকা রাখে।
রাজধানীর ব্যাংকপাড়াখ্যাত মতিঝিলের দিলকুশা এলাকার যমুনা ব্যাংকের বুথের এক নিরাপত্তাকর্মী জানান, অন্যান্য দিনে অনেক স্যার (গ্রাহক) টাকা তুলতে আসেন। ছুটি চলায় এখন তাদের সংখ্যা কমেছে।
আরও পড়ুন
দিলকুশার পপুলার ভবনের ট্রাস্ট ব্যাংকের বুথের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন ফরহাদ হোসেন। তিনি জানান, ছুটি হওয়ায় গ্রাহক কম। দিনে ৭ থেকে ৮ জন আসেন। বুথে পর্যাপ্ত টাকা আছে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শহিদ ফারুক রোডের সাউথইস্ট ব্যাংক, যমুনা, ইউসিবি, সিটি, ডাচ-বাংলা ও ঢাকা ব্যাংকের এটিএম বুথে গ্রাহকদের উপস্থিতিও তেমন একটা দেখা যায়নি।
ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথ ইনচার্জ খবরের কাগজকে বলেন, ‘আগের ছুটিগুলোতে বুথে অনেক চাপ থাকত। তবে এবার তেমন চাপ লক্ষ করা যাচ্ছে না। আমাদের এখানে অর্থের কোনো সমস্যা নেই।’
যাত্রাবাড়ী মোড়ের ব্র্যাক ব্যাংকের এটিএম বুথে টাকা তুললেন ফজলুল হক। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘আগের অনেক ছুটিতে দেখেছি বুথে দীর্ঘ লাইন। এবারে সেটা হয়নি। ক্লিনিকে এসেছি ডাক্তার দেখাতে। ডাক্তার কয়েকটি পরীক্ষা করতে বলেছেন। এর জন্য কিছু টাকার প্রয়োজন ছিল, তা উঠিয়ে নিলাম। আমরা গ্রাহক হিসেবে এমন সেবাই চাইব। দীর্ঘ লাইন দিয়ে টাকা তুলতে হবে কেন? আবার বুথে টাকা না থাকলে সেটা অনেক কষ্টের এবং বিড়ম্বনার।’
পূজার ছুটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ছুটির সময়ে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখা এবং মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়েতে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধান করতে হবে। পাশাপাশি বুথগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
মতিঝিলের শরীফ ম্যানশন ভবনের ওয়ান ব্যাংক, সেনা কল্যাণ বিজনেস সেন্টারের ট্রাস্ট ব্যাংকের বুথ এবং ডিসিসিআই ভবনের মার্কেন্টাইল ব্যাংকের বুথে গতকাল বিকেলে গিয়ে কোনো গ্রাহক দেখা যায়নি।
পুরানা পল্টনের ইব্রাহীম ম্যানশনের ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথে টাকা তোলেন জহির হোসেন নামের এক গ্রাহক। তিনি বলেন, ‘এবারের ছুটিতে বুথ থেকে আমাকে দুই দিন টাকা তুলতে হয়েছে। তবে কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়নি। আগে অনেক ছুটিতে বুথ থেকে টাকা তুলতে ঝামেলা পোহাতে হয়েছে।’
গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে বলা হয়, ব্যাংকের কার্ডধারী গ্রাহকের সংখ্যা ২৬ লাখ ৭ হাজার ৮৩৩ জন। এর মধ্যে নিয়মিত ব্যবহারকারী ১৯ লাখ।
একটা সময় শুধু শহরের মধ্যেই এটিএম বুথের সেবা পাওয়া যেত। এখন দেশের আনাচে-কানাচে এমনকি গ্রামীণ হাটবাজারের অলিগলিতেও এটিএম বুথের সেবা পৌঁছে গেছে। সেই সঙ্গে ব্যাংকগুলো তাদের সেবার পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে এটিএম বুথের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়াচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে দেশব্যাপী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট এটিএম বুথের সংখ্যা ১৯ হাজার ৮২৯টি। বুথ সবচেয়ে বেশি ডাচ-বাংলা ব্যাংকের। এরপর রয়েছে ইসলামী ব্যাংকের।
