Published on
:
2 min read
নির্বাচন কমিশনকে কেন্দ্র করে বিতর্কে লাগাতার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বিঁধে চলেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সেই সঙ্গে মঙ্গলবার ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠকের পরে কংগ্রেস নেতার ভাষণে উঠে এল এক ‘রহস্যময়ী’র কথাও। রাহুল দাবি করেছেন, ‘ভোটচুরি’-তে যাঁরা জড়িত, তাঁদের মধ্যে এক মহিলাও রয়েছেন, যিনি বর্তমানে দেরাদুনে লুকিয়ে রয়েছেন।
‘ভোটচুরি’-র নেপথ্যে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের সকলকে বিচারের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়ে মঙ্গলবার রাহুল বলেছেন, ‘আপনাদের আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, যাঁরা এই কাজ করেছেন— প্রধানমন্ত্রী মোদী, (অমিত) শাহ, জ্ঞানেশ কুমার, এবং বর্তমানে দেরাদুনে লুকিয়ে থাকা সেই মহিলা-সহ অন্যরা, তাঁদের বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।’ কিন্তু ‘দেরাদুনে লুকিয়ে থাকা’ সেই মহিলার নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি রাহুল। তার জেরেই জাতীয় রাজনীতিতে সেই ‘রহস্যময়ী’কে ঘিরে নানা জল্পনা ছড়িয়েছে।
অনেকের মত, রাহুলের ইঙ্গিত নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খান্নার দিকে। কারণ, কংগ্রেসে একাধিক নেতানেত্রীর মন্তব্যেও তাঁর নামই উঠে এসেছে। কংগ্রেস কর্মী বিজয় থোট্টাথিল এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘রাহুল গান্ধী এমন একজনের কথা বলেছেন, যিনি দেরাদুনে লুকিয়ে রয়েছেন। ভোটচুরি কেলেঙ্কারিতে জ্ঞানেশ কুমারের মতো উনিও সমান দায়ী।
সীমা খান্না কোথায়?’ কংগ্রেসের মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর হরমিত কৌরও এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘সীমা খান্না কোথায়? উনি কি দেরাদুনে লুকিয়ে আছেন? কে ওঁকে আড়াল করছেন? মনে রাখবেন, নির্বাচন কমিশনের ডেটা বা তথ্য এখনও ওঁরই হাতে। ওঁকে কারা রক্ষা করছেন এবং তাঁরা কী লুকনোর চেষ্টা করছেন?’ কমিশনের একটি অসমর্থিত সূত্রেও দাবি, আগামী বছর উত্তরাখণ্ডে বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে বর্তমানে দেরাদুনে রয়েছেন সীমা।
পশ্চিমবঙ্গে গত বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সীমার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ করেছিলেন। তা নিয়ে বাংলার রাজ্য-রাজনীতিতে বিস্তরও আলোচনা হয়। সম্প্রতি ইংরেজি দৈনিক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পরে আবার চর্চায় উঠে আসেন সীমা। প্রতিবেদনে দাবি, দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সাধু এবং বিবেক জোশীর অভিযোগ, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির বিষয়টি এখন আর বিকেন্দ্রীভূত ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় না। গোটা বিষয়টি নাকি নিয়ন্ত্রণ করেন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা! সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে এই তথ্য উঠে আসার পর থেকেই তিনি বিরোধীদের নিশানায়।
