Published on
:
2 min read
এক অদ্ভুত রাত বদলে দেয় অনেকের জীবন। রাত যত বাড়ে ততই গুলিয়ে যেতে থাকে কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যে। ছবির গল্প এগোয় অজয় নির্ভিত (মনোজ বাজপেয়ী), দিল্লির এক ঘুষখোর পুলিশ অফিসারকে নিয়ে। একটি হোটেলে রেড করে ঘুষ নিতে এসে সে অন্য একটি েকসে ফেঁসে যায়। দিল্লির রাজপথে গাড়ি থেকে লাফিয়ে পডে় এক তরুণী গুরুতর আহত হয়। তাকে ঘিরে শুরু হয় নানা চর্চা। কখনও সিবিআই অফিসার মাধোক (অক্ষয় ওবেরয়) এসে বলে তরুণী রাশিয়ান ড্রাগ ডিলার। আবার কখনও এনআইএ-র করণ (সাকিব সালিম) বলে মেয়েটি ব্রিটিশ। প্রত্যেকের উদ্দেশ্যই এক। মেয়েটিকে মেরে ফেলা। অবশেষে অজয় খুঁজে বের করে মেয়েটির নাম আরিয়া। সে ভারতীয়।
এর পর কী হয়, কেন সবাই তার প্রাণনাশের চেষ্টা করছে, তা জানা যায় ছবির ক্লাইম্যাক্সে।
একে মনোজ বাজপেয়ী, সঙ্গে নীরজ পাণ্ডের প্রযোজনা আর লেখা, স্বভাবতই দর্শক হিসেবে ছবিটা নিয়ে বাড়তি উৎসাহ থাকবেই। কিন্তু উৎসাহে জল ঢেলে দিলো ছবির ক্ল্যাইম্যাক্স। পুরো ছবি জুড়ে তিল-তিল করে গড়ে তোলা উত্তেজনা একেবারে নিমেষে শেষ করে দেয় গল্পের গতিপথ। যে ধরনের ট্যুইস্ট নীরজ-মনোজ জুটির কাছ থেকে আশা করেন দর্শকরা, তা পূরণ করতে কিছুটা ব্যর্থ হয়েছেন তাঁরা। এই ছবি মনোজের, বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রায় প্রতিটা দৃশ্যেই তিনি রয়েছেন। আর তিনি আছেন বলেই ছবির তাল কাটেনি। বিশেষ চরিত্রে দেখা যায় রাজীব গুপ্ত, কিকু শারদা আর নুসরত ভারুচাকে। ভালো অভিনেতারা থাকলেও কারও তেমন কিছু করার ছিল না। বা বলা ভালো, মনোজ আর কাউকে কিছু করতে দেননি। একাই সামলে দিয়েছেন প্রতিটা দৃশ্য। ছবিটা শেষ হওয়ার পর অন্য কারও অভিনয় তেমন ভাবে মনেও থাকে না। গল্পটাও কোথাও পৌঁছয় না।
একজন দুঁদে পলিটিশিয়ানকে একজন সাধারণ পুলিশকর্মী শুধু ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করে দিতে বলে, অসুস্থতার বাহানা করে সরে যেতে বলে, আর সে তা–ই করে। হঠাৎ করে একটি কেসের জন্য আদ্যোপান্ত ঘুষখোর এ মানুষ সৎ হয়ে যায়। আবার সে বাকিদেরও বক্তৃতা দিয়ে সৎ করে দেয়। এ ধরনের গল্প অন্তত নীরজ পাণ্ডের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়। আদতে প্রত্যাশা বেশি বলেই, বিরক্তিটাও বেড়ে যায়। তবে ছবিটা দেখার মতো নয়, এমনটা ভাববেন না। জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। সময় করে দেখে নিন।
