ব্যাট করতে নেমেছিলেন একেবারে শেষ দিকে। হাতে গোনা কয়েকটি বল বাকি ছিল। শেষ ওভারে শামার জোসেফকে তিনটি বাউন্ডারি হাঁকান প্রিন্স যাদব। অপরাজিত থাকেন ৬ বলে ১৩ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এই ইনিংসটাই গড়ে ফেলে বিরল নজির।
কী সেই রেকর্ড? টি-টোয়েন্টিতে ভারতের হয়ে ১০ বা ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে অন্তত তিনটি চার মারার কৃতিত্ব রয়েছে আর মাত্র দু’জনের। এস শ্রীসন্থ এবং রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ১৫ বছর পর সেই তালিকায় নাম লেখালেন প্রিন্স। তালিকায় শীর্ষে শ্রীসন্থ। ২০০৭ সালে জোহানেসবার্গে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই পজিশনে ব্যাট করতে নেমে চারটি চার মেরেছিলেন তিনি। ২০১১ সালে কলকাতায় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনটি চার মেরেছিলেন অশ্বিন। তার পর দীর্ঘ ১৫ বছর কেটে গিয়েছে। এবার সেই নজিরে ভাগ বসালেন প্রিন্স।
রবিবার ইন্দোরে ভারতের ইনিংসের ১৯তম ওভারে ব্যাট করতে নামেন তিনি। তখন ভারতের স্কোর ৮ উইকেটে ২০২। পরপর উইকেট হারিয়ে রান তোলার গতি কিছুটা কমে এসেছিল। সেই পরিস্থিতিতে শামার জোসেফের ওভারে তিনটি চার মেরে দলকে এগিয়ে দেন প্রিন্স। প্রথমে লো ফুলটস বলকে ডিপ মিড উইকেট দিয়ে সীমানার বাইরে পাঠান তিনি। দু’টি বল পরে উইকেটকিপার শাই হোপের মাথার উপর দিয়ে স্কুপ শটে মারেন দ্বিতীয় চার। এর পর শর্ট অফ লেন্থ বল ব্যাটের উপরের দিকে লেগে শর্ট থার্ড ম্যানের উপর দিয়ে চলে যায় সীমানার বাইরে। সেটিই ছিল ওই ওভারে প্রিন্সের তৃতীয় চার। ওই ওভারে একটি বাই রানও পায় ভারত। শেষ দিকে তাঁর এই ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সুবাদে ২২৩ রানে পৌঁছয় ভারত।
ভারতের বড় রানের ভিত অবশ্য গড়ে দিয়েছিলেন অভিষেক শর্মা। মাত্র ৩০ বলে ৬৯ রান করেন তিনি। ঈশান কিষানের ব্যাট থেকে আসে ১৮ বলে ৩৭ রান। অভিষেক-ঈশানরা যে গতিতে রান তুলছিলেন, তাতে মনে হয়েছিল আড়াইশো পার হবে সহজে। কিন্তু টিম ইন্ডিয়া থামে ২২৩ রানে। মাঝে ১৫ রানে ৪ উইকেট হারায় ভারত। সেই সময় প্রিন্সের এই অবদান। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস থামে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২০৯ রানে। অর্শদীপ সিং ৪৪ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন। নমন ধীরের ঝুলিতে যায় দু’টি উইকেট। শেষ দিকে মাত্র ১১ বলে অপরাজিত ৩৫ রান করে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন শামার স্প্রিঙ্গার। কিন্তু তাঁর লড়াই শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি। ১৪ রানে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত। এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টিম ইন্ডিয়া। সিরিজের চতুর্থ ম্যাচ বুধবার হায়দরাবাদে।
