পবন রত্নায়েকে, দাসুন শানাকা চালাতে থাকেন তাণ্ডব। বাদ যাননি আভিস্কা ফার্নান্দো, জানিথ লিয়ানাগেও। ইংল্যান্ডের বোলার-ফিল্ডাররা অসহায়ের মতো দেখেন রাওয়ালপিন্ডির গ্যালারিতে আছড়ে পড়ছে একের পর এক বল। শেষ পর্যন্ত ৪৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ২ উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয়ে রেকর্ড গড়ল শ্রীলঙ্কা।
শেষ ২৪ বলে যখন ৪৩ রানের সমীকরণের সামনে শ্রীলঙ্কা, তখন জমে ওঠে খেলা। স্যাম কারানের করা সেই ওভার থেকে ১৯ রান নেয় শ্রীলঙ্কা। যার মধ্যে একটি করে চার ও ছক্কা মারেন লিয়ানাগে। সাহান আরাশশিগে পঞ্চম বলে চার মারার পরের বলেই আউট হয়ে যান তিনি।
আরাশশিগে আউট হলেও একপ্রান্তে লিয়ানাগে তাঁর তাণ্ডব চালিয়ে যান। ৪৩০ রান তাড়া করে শ্রীলঙ্কার জয় সময়ের ব্যাপার মনে হলেও শেষের দিকে জমে ওঠে রোমাঞ্চ। হাতে ৪ উইকেট নিয়ে শেষ ওভারে ৮ রানের সমীকরণের সামনে যখন দাঁড়িয়ে, সেই ৫০তম ওভারের দ্বিতীয়, তৃতীয় বলে জশ টাঙ তুলে নেন দুনিথ ভেল্লালাগে, ইশান মালিঙ্গার উইকেট। লঙ্কান দুই টেলএন্ডার ব্যাটারকেই বোল্ড করেন টাঙ।
শেষ ওভারের চতুর্থ বলে আসিতা ফার্নান্দো সিঙ্গেল দিয়ে স্ট্রাইক দেন লিয়ানাগেকে। টাঙের বল লিয়ানাগে লং অফ দিয়ে রাওয়ালপিন্ডির গ্যালারিতে আছড়ে ফেলতেই হয়ে যায় ইতিহাস। ছক্কা মেরে শ্রীলঙ্কার ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়ে মাঠ ছাড়েন লিয়ানাগে। ওয়ানডে ইতিহাসে এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।
রাওয়ালপিন্ডিতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে ৪৩০ রানের পাহাড়সম লক্ষ্যে নেমে ৪.২ ওভারে ২ উইকেটে ২৪ রানে পরিণত হয় শ্রীলঙ্কা। ওপেনিংয়ে নামা কামিন্দু মেন্ডিসকে (১৮) বোল্ড করেন জশ টাঙ। অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস রানের খাতা খোলার আগেই রানআউট। ওপেনার আভিস্কার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে কোনো বল মোকাবিলা না করেই কুশল রানআউট।
চাপে পড়া শ্রীলঙ্কাকে উদ্ধারের দায়িত্ব নেন আভিস্কা ও পবন রত্নায়েকে। তৃতীয় উইকেটে তাঁরা ১৩৭ বলে ১৬৬ রানের জুটি গড়েন। পঞ্চম ওয়ানডে সেঞ্চুরি আভিস্কার কাছে কেবল সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল। কিন্তু সেটা আর সম্ভব হয়নি। ২৮তম ওভারের প্রথম বলে আভিস্কাকে কট এন্ড বোল্ড করেন জেমি ওভারটন। ৮৩ বলে ১১ চার ও ২ ছক্কায় ৯৭ রানে আউট হয়েছেন আভিস্কা।
আভিস্কা না পারলেও রত্নায়েকে পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখা। ওয়ানডেতে এটা তাঁর দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তিন অঙ্ক ছুঁতে এবার লেগেছে ৮৭ বল। ১০৬ বলে ১৫ চার ও ৩ ছক্কায় করেন ১৩০ রান। ৪১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে রত্নায়েকের উইকেট তুলে নেন স্যাম কারান। চতুর্থ উইকেটে ৭৯ বলে ১৩৩ রানের জুটি গড়েন রত্নায়েকে-শানাকা।
চতুর্থ উইকেটে বিধ্বংসী জুটিতে শানাকার অবদানই বেশি। যদিও ব্যক্তিগত ৩২ রানে একবার আউট হতে হতে বেঁচে গিয়েছেন তিনি। ৩৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে অ্যাটকিনসনের বাউন্সার পুল করতে যান শানাকা। উইকেটরক্ষক জর্ডান কক্স ক্যাচ ধরার পর আবেদন করলে আম্পায়ার আঙুল তুলে দেন। শানাকা সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নিলে দেখা যায়, বল লেগেছে তাঁর হেলমেটে।
রত্নায়েকে আউট হলেও শানাকা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে গেছেন।
