

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ময়মনসিংহের ভালুকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করেছেন উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও ধীতপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান খান রাসেল।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে এ উপলক্ষে আয়োজিত কার্যক্রমে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে শান্তিগঞ্জ শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়।
এ সময় দুর্গাপূজার আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়া এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মধ্যে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট থাকুক—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
এসময় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বামীকে আটকে রেখে পোশাক শ্রমিককে দলবদ্ধ ধ'র্ষণের অভিযোগ
গাজীপুরের শ্রীপুরে এক পোশাকশ্রমিক নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযোগ, ওই নারীর স্বামীকে মারধর করে পাশের কক্ষে আটকে রেখে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভুক্তভোগী নারী শ্রীপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের হানু মার্কেট এলাকায় স্বামীর সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন ২০ বছর বয়সী ওই নারী। তিনি স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। গত সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে অভিযুক্তরা তাঁদের বাসায় গিয়ে ওই নারীর স্বামীকে মারধর করে পাশের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে তাঁকে পাশের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজন জড়িত ছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান বলে এজাহারে বলা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় যেতে পারেননি ওই নারী। পরে স্বজনদের সহায়তায় তিনি মামলা করেন। মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন ফারুক (৩২) ও নয়ন (১৯)। তাঁদের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুজনকেও আসামি করা হয়েছে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। ভুক্তভোগীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জগন্নাথপুরের শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের নবীন বরণে এমপি কয়ছর আহমেদ
উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়াস্থিত শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ে একাদশ শ্রেণির (২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের ‘নবীন বরণ-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১টায় কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ বলেন, “আজকের নবীন শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপকার। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হলে দেশ এগিয়ে যাবে এবং এর সুফল জগন্নাথপুরবাসীও ভোগ করবে। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি জগন্নাথপুরকে একটি মডেল উপজেলায় রূপান্তর করব। তবে একা এই কাজ করা সম্ভব নয়; সবার সহযোগিতা পেলে আমি অবশ্যই সফল হব। আগামী ১০ বছরের মধ্যে জগন্নাথপুরকে আমরা দেশের সর্বোচ্চ জায়গায় দেখতে চাই।” শিক্ষা খাতের অগ্রগতি ও কলেজের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমাদের সরকার শিক্ষাবান্ধব। বাংলাদেশে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ বাজেট শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শাহজালাল মহাবিদ্যালয় সরকারীকরণ, সীমানা প্রাচীর (বাউন্ডারি ওয়াল) নির্মাণ এবং ডিগ্রি স্তরে উন্নীত করার জন্য আমার পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও অনুদান থাকবে।” শাহজালাল মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তাঁদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক ও স্থানীয় প্রতিনিধিবৃন্দ শাহজালাল মহাবিদ্যালয়কে ডিগ্রিকরণ, সরকারীকরণ এবং বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের জোরালো দাবি জানান। শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ এনামুল কবিরের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক তাশনিমুল শিহাবের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইসলাম উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মহসিন উদ্দিন, জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আবু হোরায়রা ছাদ, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা জজ আদালতের এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহিম শাহিন, কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রফিক মিয়া, জগন্নাথপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি তাজ উদ্দিন আহমেদ এবং জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী আব্দুস সোবহান। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন কলকলিয়া ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল হাশিম, শিক্ষানুরাগী এম সাদিকুর রহমান নান্নু, আনিছুর রহমান, আব্বুস সালাম, হুমায়ুন কবীর, জহিরুল ইসলাম লেবু, কলকলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সেলিম আহমেদ এবং সাবেক শিক্ষার্থী জিল্লুল হক। অনুষ্ঠানে বক্তারা কলেজের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, কলেজটি বিএনপি সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এর জমি দান করেছিলেন প্রখ্যাত দানবীর হাজী ইশরাক আলী। কলেজটির শিক্ষার মান ও পরিধি বাড়াতে দ্রুত ডিগ্রি কোর্স চালু এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম এবং গীতা পাঠ করেন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবনী রানী নাথ। দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নবীনদের উদ্দেশ্যে মানপত্র পাঠ করেন মোঃ ইমন আহমেদ এবং নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রেদোওয়ান হোসেন রিয়াদ। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। পরবর্তীতে কলেজের শিক্ষকমণ্ডলীর পক্ষ থেকে শিক্ষক শিব্বির আহমেদ প্রধান অতিথিকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন।

টঙ্গীবাড়ীতে নিসচার উদ্যোগে শিক্ষার্থী সমাবেশ ও কুইজ প্রতিযোগিতা
‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে সচেতনতামূলক শিক্ষার্থী সমাবেশ ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) টঙ্গীবাড়ী উপজেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলার বেতকা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ছটফটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ট্রাফিক সিগন্যাল ও সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এ সময় সড়কে চলাচলের নিয়ম, ট্রাফিক সংকেত মেনে চলা এবং দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এবং বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। নিসচা টঙ্গীবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি নূর মোহাম্মদ বেপারীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাসুম হোসেন অপুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গীবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. খোরশেদ আলম শেখ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ছটফটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান মোল্লা, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারজানা ইয়াসমিন, শিক্ষকবৃন্দ, সমাজসেবক রোমান খান, নিসচা টঙ্গীবাড়ী উপজেলা শাখার সহসভাপতি শাহজাহান মাদবর, সহসাধারণ সম্পাদক মাসুদ হোসেন, সহসাধারণ সম্পাদক সার্ভেয়ার কামাল হোসেন, অর্থবিষয়ক সম্পাদক আক্কাস বেপারী, প্রচার সম্পাদক জসিম শেখ, কার্যকরী সদস্য রিয়াজুল ইসলাম, কামাল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ সড়ক গড়ার লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে ১১ বিজিবির অধিনায়ক
শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে উদযাপন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ও বাইশারী ইউনিয়নসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় দুই প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বিজিবি সদস্যরা। এর মধ্যে এক প্লাটুন সদস্য পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন এবং অপর প্লাটুন নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করবে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবিরের নেতৃত্বে দায়িত্বপূর্ণ নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের নাইক্ষ্যংছড়ি কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী সার্বজনীন হরিমন্দির পূজামণ্ডপ ও বাইশারী এলাকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনকালে বিজিবির অধিনায়ক দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে বিজিবির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন। এ সময় নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর নবাগত উপ-অধিনায়ক মেজর তাহ্সিন উদ্দিন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধ দমন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে কাজ করে আসছে। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীটি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে। বিজিবি জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় উৎসব নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

পূজায় যাতায়াত নিশ্চিত করতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট পরিদর্শনে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
শারদীয় দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে মানিকগঞ্জের শিবালয়ে পাটুরিয়া ফেরি ও লঞ্চঘাট পরিদর্শন করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, এমপি। এ সময় তিনি যাত্রীসেবার মান বজায় রাখা, ঘাট ব্যবস্থাপনা সচল রাখা এবং যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে প্রতিমন্ত্রী পাটুরিয়ার আধুনিক ওয়াটার বাসঘাট, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ১ থেকে ৪ নম্বর ফেরিঘাট এবং লঞ্চঘাটের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি লঞ্চমালিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পূজার ছুটিতে যাত্রীদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে ঘাটসংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। পরে বিআইডব্লিউটিএর একটি কেবিন ক্রুজারে চড়ে আরিচা, পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ঘাটসহ নৌপথের সার্বিক পরিস্থিতি এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান বলেন, পূজার ছুটিতে যারা বাড়িতে যাবেন কিংবা বেড়াতে যাবেন, তাঁদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের চলাচলে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে এবং তাঁরা স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াতের পাশাপাশি নিরাপদে ফিরে আসতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ঘাট ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যাতায়াতব্যবস্থাকে আরও সহজ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার চেষ্টা চলছে। বাসগুলো যাতে সঠিকভাবে যাত্রী নামিয়ে ফেরিতে উঠতে পারে, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘাটগুলোর সম্ভাব্য ত্রুটি ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি যাত্রীদের সরকারি নিয়ম মেনে চলা এবং ঘাটে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার এবং যাত্রীদের সচেতন করার অনুরোধ জানান, যাতে পূজার ছুটিতে মানুষ নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে আবার নিরাপদে ফিরতে পারেন। নদীর নাব্যতা সংকট এবং বিকল্প ঘাট ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীর দুই পাড়েই অতিরিক্ত ঘাট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নদীভাঙন কিংবা পানির স্তর কমে যাওয়ার কারণে কোনো ঘাটে সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত বিকল্প ঘাট চালু করা হবে। এ ছাড়া যাত্রী পরিবহনের সার্বিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ড্রেজারও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কোথাও ড্রেজিংসংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে তা সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় পূজার দীর্ঘ ছুটিতে মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ছুটি উপভোগ করতে পারবেন। এ জন্য প্রয়োজনীয় সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। নদীর পানির স্তর ও ঘাট স্থানান্তর প্রসঙ্গে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান মিডওয়াটার লেভেলে আগামী এক মাস ঘাটগুলো পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে তাঁরা আশাবাদী। পূজার ছুটি শেষ হলে পানির স্তর আরও কমে যাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় লোয়ার ওয়াটার ঘাট চালুর কাজ শুরু করা হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান ব্যবস্থাপনা অব্যাহত রাখা হবে। এখন পর্যন্ত ঘাট পরিচালনায় বড় ধরনের কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। পানির স্তর আরও নেমে গেলে প্রস্তুত রাখা লোয়ার ওয়াটার ঘাটগুলো চালু করা হবে। এসব ঘাটের প্রস্তুতি প্রায় শেষ; প্রয়োজন অনুযায়ী শুধু স্থানান্তর করতে হবে। ফলে আপাতত যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা দেখছেন না তাঁরা। পরিদর্শনকালে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


