নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে যুবদল নেতা রিপন মিয়া (৪২) হত্যা মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১১ ও এসআরবি-১-এর যৌথ দল।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ফ্লাইওভারের পাশে তানহা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে থেকে সারোয়ার খানকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়। এসআরবির দাবি, মামলা হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এসআরবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রূপগঞ্জের ভোলাব ইউনিয়নের পাইস্কা গ্রামে কলি মার্কেটসংলগ্ন আমিনুল খানের বাড়ির পাশে রিপন মিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত শহিদুল্লাহর ছেলে এবং স্থানীয় যুবদল নেতা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঘটনার সময় রিপন মিয়া তার ছেলে শাওন ইফাতকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় পূর্বশত্রুতার জের ধরে কাজী রিফাত (৩০), কাজী তানভীর (২০), একই এলাকার মোক্তার খানের ছেলে সারোয়ার খান (২০), ফরহাদ (১৯), কাজী আমিরুল (২০), রিয়াজ উদ্দিন খানের ছেলে ইমন খান (২০), কাজী জুয়েল মুন্সীর ছেলে কাজী রাফিল (১৯) এবং কাজী নুর মোহাম্মদের ছেলে কাজী সাব্বির (২০) ও বাধন কাজীসহ (১৯) অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ৩০ জন তাদের পথরোধ করেন।
পরে তারা বল্লম, চাপাতি, ছেনি ও ধারালো চাকু দিয়ে রিপন মিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপ ও আঘাত করেন। এতে তার মৃত্যু হয়। এ সময় প্রাণভয়ে শাওন ইফাত দৌড়ে পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রিপন মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় রিপন মিয়ার ছেলে শাওন ইফাত বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।
এসআরবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মামলা হওয়ার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল জব্বার এসআরবি-১১-এর নারায়ণগঞ্জের অধিনায়কের কাছে একটি অধিযাচনপত্র পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে এসআরবি-১১-এর সদর কোম্পানি আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়।
পরে এসআরবি-১১-এর সদর কোম্পানি, নারায়ণগঞ্জ এবং এসআরবি-১-এর সিপিএসসি, পোড়াবাড়ি, গাজীপুরের একটি যৌথ দল অভিযান চালায়। নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারি ও ঢাকা ইন্টের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে চন্দ্রা ফ্লাইওভারের পাশে তানহা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে থেকে সারোয়ার খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি এ মামলার এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি।
গ্রেপ্তার সারোয়ার খানের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
