প্রথম আলো: প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে আপনারা কোন ধরনের প্রকল্পের স্বপ্ন দেখেছিলেন? সেই লক্ষ্য কতটা পূরণ করতে পেরেছেন?
হাসিব এম আবদুল্লাহ: ১৯৯৫ সালে আরবান ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের যাত্রা শুরু হয়েছিল একটি সুস্পষ্ট স্বপ্ন নিয়ে। সেটি হচ্ছে ঢাকার মানুষের জন্য মানসম্মত, আধুনিক ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ আবাসন নিশ্চিতের পাশাপাশি সর্বোচ্চ মানের গ্রাহকসেবা প্রদান করা। আমাদের কাজের মূলনীতি ছিল তিনটি—প্রতিশ্রুত সময়ে প্রকল্প হস্তান্তর, সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব এবং নির্মাণের মানে কোনো আপস না করা। গত তিন দশকের পথচলায় আমরা সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই এগিয়েছি। ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, উত্তরা, বারিধারা, ইস্কাটন, পল্টন, বসুন্ধরা, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, ইন্দিরা রোডসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ১২৫টির বেশি প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। ৫ হাজারের বেশি পরিবার আরবান ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টকে তাদের নির্ভরতার ঠিকানা হিসেবে বেছে নিয়েছে এবং ৪৭০-এর বেশি জমির মালিক আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন।
প্রথম আলো: নির্মাণ খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার কি ক্রমেই বাড়ছে? আরবান কোন কোন ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে?
হাসিব এম আবদুল্লাহ: হ্যাঁ, নির্মাণ খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দ্রুত বাড়ছে। আমরা মনে করি, ভবিষ্যতের আবাসন খাত আরও বেশি প্রযুক্তিনির্ভর। আরবানও প্রকল্পের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে নির্মাণ, তদারকি এবং গ্রাহকের কাছে উপস্থাপন—প্রতিটি পর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে। ইআরপি সফটওয়্যারের ব্যাবহার আমাদের প্ল্যানিং ও কাজের যথেষ্ট সমন্বয় ও উৎকর্ষে ভূমিকা রাখছে।
প্রথম আলো: নির্মাণসামগ্রীর উচ্চ মূল্যের কারণে ব্যয় অনেক বেড়েছে। এ অবস্থায় গ্রাহকদের জন্য অ্যাপার্টমেন্টের দাম স্থিতিশীল রাখা কতটা চ্যালেঞ্জিং?
হাসিব এম আবদুল্লাহ: রড, সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হারের পরিবর্তন এবং ঋণের উচ্চ সুদ—সব মিলিয়ে গত কয়েক বছরে নির্মাণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতিতে অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য স্থিতিশীল রাখা ডেভেলপারদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা সব সময় দক্ষ পরিকল্পনা ও ব্যয়ের সুষম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই অতিরিক্ত চাপের যতটা সম্ভব নিজেদের পর্যায়ে সামাল দিতে চেষ্টা করি, যাতে এর পুরো প্রভাব গ্রাহকের ওপর না পড়ে। তবে নির্মাণের মানের সঙ্গে আপস করে মূল্য কম রাখার নীতিতে আমরা বিশ্বাসী নই। একই সঙ্গে মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রেও আমরা বাস্তবসম্মত ও স্বচ্ছ থাকার চেষ্টা করি।
প্রথম আলো: প্রচলিত ধারার ক্রেতা ও নতুন প্রজন্মের ক্রেতাদের চাহিদায় কী ধরনের পার্থক্য দেখছেন?
হাসিব এম আবদুল্লাহ: সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবনযাপন যেমন বদলেছে, তেমনি বদলেছে একটি আদর্শ বাড়ি সম্পর্কে তাঁদের প্রত্যাশাও। প্রচলিত ধারার ক্রেতারা সাধারণত অ্যাপার্টমেন্টের আকার, নিরাপত্তা, বায়ু চলাচলব্যবস্থা এবং পরিবারকেন্দ্রিক ইত্যাদিকে বেশি গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের ক্রেতারা তুলনামূলকভাবে স্মার্ট ও কার্যকর স্পেস প্ল্যানিং, ভালো লোকেশন ও যাতায়াত সুবিধা, আধুনিক লাইফস্টাইল সুযোগ-সুবিধা, কমিউনিটি স্পেস এবং পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জীবনযাপনের বিষয়গুলোকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। আরবানে আমরা এই দুই প্রজন্মের চাহিদার মধ্যে একটি সুন্দর সমন্বয় তৈরির চেষ্টা করি। কারণ, আমাদের কাছে একটি বাড়ি শুধু কিছু বর্গফুটের একটি জায়গা নয়; এটি একটি পরিবারের স্বাচ্ছন্দ্য, নিরাপত্তা, জীবনযাত্রার মান এবং সামাজিক পরিচয়েরও অংশ।
প্রথম আলো: আগামী দশকে বাংলাদেশের আবাসন খাতে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে? সেই পরিবর্তনের জন্য আরবান কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে?
হাসিব এম আবদুল্লাহ: আগামী এক দশকে বাংলাদেশের আবাসন খাতে পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে জমির স্বল্পতা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে পরিকল্পিত আবাসন, কার্যকর স্পেস ব্যবস্থাপনা এবং একই প্রকল্পের মধ্যে আধুনিক জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার চাহিদা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং নতুন সড়ক যোগাযোগসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন শহরের আবাসন মানচিত্রেও পরিবর্তন আনবে।
এই পরিবর্তনের জন্য আরবান এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা দক্ষ জনবল তৈরিতে নিয়মিত বিনিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, পরিকল্পনা ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছি এবং পরিবেশসচেতন ও টেকসই নির্মাণচর্চার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।
