আজকাল ওয়েবডেস্ক: দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ২৪৯ রান তাড়া করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু তৃতীয় ম্যাচে ভারতের ২২৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষরক্ষা হল না ক্যারিবিয়ানদের। তারা থামল ২০৯ রানে।
অভিষেক শর্মার বিধ্বংসী ব্যাটিং এবং অর্শদীপ সিংয়ের দুরন্ত বোলিংয়ের সৌজন্যে ম্যাচ জিতে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে অভিষেক শর্মার ঝোড়ো ইনিংসের উপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২২৩ রান তোলে ভারত। যদিও শুরুতে দ্রুত রান তুলে বড় স্কোরের ভিত গড়ার পর মাঝের ওভারে একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারতীয় দল। তবে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে লড়াকু স্কোর খাড়া করে টিম ইন্ডিয়া।
ভারতের ইনিংসের শুরুটা অবশ্য খুব একটা ভালো হয়নি। অভিজ্ঞ স্পিনার রোস্টন চেজ প্রথম ওভারে মাত্র চার রান দেন। এরপর শামার জোসেফের ঘণ্টায় ১৫০.৮ কিলোমিটার গতির আগুনে বলে মিড-উইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান সঞ্জু স্যামসন। তাঁর সংগ্রহ মাত্র তিন রান। তবে সেই ধাক্কা সামলে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে যায় ভারত।
শুরুতে কিছুটা সময় নিয়ে ব্যাট করলেও ক্রিজে থিতু হওয়ার পর বিধ্বংসী মেজাজে ধরা দেন অভিষেক। রোস্টন চেজের এক ওভারে দুটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়ে ১৮ রান তোলেন তিনি। অন্যদিকে, কিমো পলের ওভারে একাধিক বাউন্ডারি মেরে হাত খোলেন ঈশান কিষাণ। শামার স্প্রিঙ্গারের এক ওভার থেকে আসে ২১ রান। পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে শামার জোসেফকে আক্রমণ করে মাত্র ১৮ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন অভিষেক।
শেষ পর্যন্ত ৩০ বলে ৬৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে আউট হন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও পাঁচটি ছক্কা। এই ইনিংসের মধ্যেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২,০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন অভিষেক। মাত্র ১,০২৪ বলে এই কৃতিত্ব অর্জন করে বলের হিসাবে দ্রুততম ২,০০০ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি রান সংগ্রহের নজিরও গড়েন তিনি।
অভিষেকের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন ঈশান কিষাণও। মাত্র ১৮ বলে ৩৭ রান করে রোস্টন চেজের বলে স্টাম্পড হন তিনি। একই ওভারে শ্রেয়স আইয়ারকে এলবিডব্লিউ করে ভারতকে জোড়া ধাক্কা দেন চেজ। এরপর শামার স্প্রিঙ্গারের বলে ক্যাচ অ্যান্ড বোল্ড হয়ে ফেরেন অভিষেক। পাঁচ বলে ১০ রান করে আউট হন নমন ধীর।
পরপর উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। তিলক বর্মা ও অক্ষর প্যাটেলের রান আউট পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। হাঁটতে হাঁটতে রান আউট হন তিলক। ঝুঁকিপূর্ণ সিঙ্গল নিতে গিয়ে রান আউট হন অক্ষরও। শামার স্প্রিঙ্গারকে ছক্কা হাঁকানোর পরের বলেই উইকেট হারান অর্শদীপ সিং। মাঝের ওভারে দ্রুত উইকেট পড়লেও শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ২২৩ রান সংগ্রহ করে ভারত।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অধিনায়ক শাই হোপ মাত্র পাঁচ রান করে ফিরে যান। তবে কামিল পুরান ২৭ বলে ৪২ রান করে পাল্টা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। বিপজ্জনক ব্যাটার শিমরন হেটমায়ারও ২৬ বলে ৪৩ রান করে আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের কেউই ইনিংসকে শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে পারেননি।
রভম্যান পাওয়েল মাত্র পাঁচ রান করে আউট হন। এরপর রাদারফোর্ড ৩২ এবং স্যাম্পসন ২১ রান করে ফিরে গেলে ক্যারিবিয়ানদের জয়ের আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। কিমো পল ১০ রান করে অর্শদীপ সিংয়ের বলে আউট হন। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে অর্শদীপই ছিলেন অন্যতম সফল। চার ওভারে তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তাড়ায় বড় ধাক্কা দেন তিনি।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ছিল ৩৭ রান। ফলে ম্যাচে ফেরার আর কোনও বাস্তবসম্মত সুযোগ ছিল না ক্যারিবিয়ানদের সামনে। ভারতের বড় রানের পুঁজি এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সের সামনে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় তাদের। ওয়েস্ট ইন্ডিজ থামে ৭ উইকেটে ২০৯ রানে।
