নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার বক্তাবলীতে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার না পাওয়ায় বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে ডিলাররা সার বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ কৃষকদের। সারের অভাবে কৃষকদের আলু চাষে ব্যাঘাত ঘটছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বক্তাবলীর ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ডিসি অফিস ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষকরা। মঙ্গলবার বক্তাবলীর কানাইনগর বেকারি মোড়ে এ বিক্ষোভ করেন তারা।
বিজ্ঞাপন
বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. বাদশা মাদবরের সভাপতিত্বে কৃষকদের মধ্যে বক্তব্য দেন বক্তাবলী ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি রহমত উল্লাহ, কৃষক আমিন উদ্দিন বেপারী, সানা উল্লাহ, আল আমিন, আফাজ উদ্দিন, আল আমিন হৃদয়, কামাল হোসেন, মো. হাসান শেখ, সফিউল্লাহ, আব্দুল ওয়াদুদ, মঞ্জু, আব্দুল আলিম ও সেরুন মিয়াসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, বক্তাবলী ইউনিয়নের কৃষকরা সার ডিলার আমির হোসেনের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের লক্ষ্যে তিনি তার ভাই, কর্মচারীসহ নিজস্ব লোকদের সার ডিলার করেছেন। এ চক্র সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করছে। সরকার প্রতি বস্তা সারের দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করলেও ডিলাররা দাম রাখছেন ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা। সার বিক্রির সময় কৃষকদের বিক্রয় রশিদ দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হচ্ছে না। বিক্রয় রশিদ দেওয়া হলেও সেখানে ১ হাজার ৩৫০ টাকাই লেখা হচ্ছে।
এতে কেউ প্রতিবাদ করলে নানা অজুহাত দেখানো হয়। কৃষকরা প্রতিবাদ করলে সারসংকটের কথা বলে জানানো হয়, সার নেই। অথচ গুদামে পর্যাপ্ত পরিমাণে সার রয়েছে বলে দাবি তাঁদের। ‘কৃষক বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগান সামনে রেখে এগিয়ে চললেও অসাধু সার ডিলাররা সরকারের সুনাম নষ্ট করতে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
বক্তারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, ডিলারদের বিরুদ্ধে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো লাভ হয় না। তারা পরিদর্শনে এসে ডিলারের সঙ্গে মুরগির মাংস দিয়ে ভাত খেয়ে পকেট ভারী করে চলে যান। এতে কৃষকরা বিপাকে পড়েন বলে অভিযোগ তাঁদের।
বক্তারা আরো বলেন, সার ডিলার আমিরের কাছে জিম্মি বক্তাবলী ইউনিয়নের কৃষকরা। বক্তাবলী ইউনিয়নে আমির হোসেন একটি দোকান থেকে পাঁচটি ডিলার নিয়ন্ত্রণ করেন। এ কারণে কৃষকরা সরকারি নির্ধারিত দামে সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘অভিযোগের ব্যাপারে আমার জানা নেই। মাত্রই শুনেছি। অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
