আইসা নেত্রী নেহা বোরার আর্জি শুক্রবার খারিজ করে দিয়েছে দিল্লি হাই কোর্ট। রাজধানীর স্পেশাল এগ্জ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম) বলেছিলেন, নেহাকে আদালতে হাজির হয়ে ১০ হাজার টাকার বন্ড এবং শান্তি ভঙ্গ না করার মুচলেকা দিতে হবে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে নেহার যুক্তি ছিল, ম্যাজিস্ট্রেটের নোটিসে ভুল তথ্য রয়েছে। তিনি শান্তি ভঙ্গ করতে পারেন, এই দাবির পক্ষে কোনও যুক্তিই দেওয়া হয়নি। নেহার সেই বক্তব্য খারিজ করে দেয় দিল্লি হাই কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) নবম অধ্যায়ের অধীনে কোনও ঘটনার প্রকৃতি এবং আনুষাঙ্গিক পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর ব্যক্তিগত ভাবনা এবং বোঝাপড়ার উপরেই এটা নির্ভর করে। নেহার ক্ষেত্রেও তা-ই করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, বিএনএসএস-এর ১৬৩ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও গত ১৬ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞা ভেঙে নেহা মান্ডি হাউস এবং যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখান। নেহার যুক্তি ছিল, মান্ডি হাউস এলাকা ১৬৩ ধারার আওতার বাইরে ছিল। হাই কোর্ট সেই যুক্তি মানেনি। সরকারি তথ্য খতিয়ে দেখে বিচারপতি সুব্রমনিয়ম প্রসাদ জানান, গত ২৪ অগস্ট নয়াদিল্লির বারখাম্বা রোড ও তিলক মার্গ থানা এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। মান্ডি হাউস সেই এলাকার মধ্যেই পড়ে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ম্যাজিস্ট্রেট কেবল শোনা কথার উপর ভিত্তি করে নেহাকে মুচলেকা দিতে বলেননি। বিভিন্ন থানায় নথিভুক্ত কেস ডায়েরি বিবেচনা করে তিনি ওই নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে সরকার পক্ষকেও পৃথক নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। বলা হয়েছে, নেহা যখন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হবেন, তাঁর হাতে সমস্ত নথিপত্র তুলে দিতে হবে সরকারকে। সেই সমস্ত উপকরণও নেহাকে দিতে হবে, যা পরবর্তী সময়ে তদন্তে ব্যবহৃত হবে। যে নথির ভিত্তিতে নেহার বিরুদ্ধে নোটিস জারি করা হয়েছে, তা-ও আইসা নেত্রীর হাতে তুলে দিতে বলেছে আদালত।
বিএনএসএস-এর নবম অধ্যায় অনুযায়ী, ম্যাজিস্ট্রেট যদি দেখেন কোনও ব্যক্তির কার্যকলাপে শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে এবং তিনি আবার একই কাজ করতে পারেন বলে যদি মনে হয়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা যাবে। নেহার ক্ষেত্রে আদালতের পর্যবেক্ষণ, সতর্ক করার পরেও তিনি নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন। তবে আত্মপক্ষ সমর্থন বা নোটিস চ্যালেঞ্জের পথ তাঁর সামনে সবসময় খোলা আছে। তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে, এমনকি তদন্ত শেষে চূড়ান্ত নির্দেশের পরেও তিনি তা চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন।
