প্যানিক অ্যাটাক হল আচমকা তীব্র ভয় বা অস্বস্তির অনুভূতি, যার সঙ্গে একাধিক শারীরিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। পুজোর সময়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, গরমে হাঁটাহাঁটি, ঘুমের ঘাটতি, পর্যাপ্ত জল পান না করা এবং চারপাশের প্রবল শব্দ অস্বস্তি বাড়াতে পারে।
যাঁদের আগে থেকেই উদ্বেগ বা প্যানিক অ্যাটাকের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠতে পারে। ভিড়ের মধ্যে আটকে পড়ার ভয় থেকেও শুরু হতে পারে সমস্যা।
আচমকা প্যানিক অ্যাটাক হলে কী করবেন?
নিরাপদ জায়গায় সরে আসুন: ভিড়ের মধ্যে অস্বস্তি শুরু হলে হুড়োহুড়ি করে বেরনোর চেষ্টা করবেন না। সম্ভব হলে ধীরে ধীরে তুলনামূলক ফাঁকা জায়গায় চলে যান। প্রয়োজনে নিরাপত্তাকর্মী বা সঙ্গে থাকা কারও সাহায্য নিন।
শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখুন: আতঙ্কের সময় শ্বাস দ্রুত হতে পারে। নাক দিয়ে ধীরে শ্বাস নিন এবং স্বস্তির সঙ্গে ছাড়ুন। জোর করে গভীর শ্বাস নেওয়া বা দীর্ঘক্ষণ শ্বাস আটকে রাখবেন না।
মনোযোগ অন্য দিকে দিন: আশপাশে দেখা যাচ্ছে এমন কয়েকটি জিনিসের দিকে মন দিন। পায়ের তলায় মাটির স্পর্শ অনুভব করুন বা পরিচিত কারও সঙ্গে কথা বলুন। এতে আতঙ্কের অনুভূতি সামলাতে সাহায্য হতে পারে।
নিজেকে সময় দিন: সম্ভব হলে বসে বিশ্রাম নিন। গরমে বা ভিড়ে অস্বস্তি হলে ঠান্ডা, নিরাপদ জায়গায় চলে আসুন। অল্প অল্প করে জল পান করুন। তবে উপসর্গ গুরুতর হলে শুধু বিশ্রাম নিয়ে অপেক্ষা করবেন না।
হার্টের সমস্যাও হতে পারে?
প্যানিক অ্যাটাকের সময় বুক ধড়ফড়, ঘাম, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট ও বুকে অস্বস্তি হতে পারে। কিন্তু হার্ট অ্যাটাক বা অন্য জরুরি শারীরিক সমস্যাতেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই বুকের অস্বস্তি হলেই সেটিকে প্যানিক অ্যাটাক বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
বুকে চাপ বা ব্যথা, হাত-পিঠ-ঘাড়-চোয়ালে ছড়িয়ে পড়া ব্যথা, ঘাম, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা তীব্র শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন। নতুন বা অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে রোগ নির্ণয় করার চেষ্টা করবেন না।

বেরনোর আগে সতর্কতা
প্যানিক অ্যাটাকের পূর্ব-ইতিহাস থাকলে ভিড়ে বেরনোর পরিকল্পনা একটু ভেবেচিন্তে করুন। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত খাবার এবং জল পানের দিকে নজর দিন। বেশি ভিড় এড়িয়ে চলুন, সঙ্গে পরিচিত কাউকে রাখুন এবং প্রয়োজন হলে কোথায় গিয়ে বিশ্রাম নেওয়া যায়, তা আগে থেকে জেনে রাখুন। চিকিৎসকের পরামর্শে কোনও ওষুধ খেলে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলুন। নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধের মাত্রা বাড়াবেন না বা নতুন ওষুধ খাবেন না।
বারবার প্যানিক অ্যাটাক হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী মনস্তাত্ত্বিক থেরাপি, বিশেষ করে কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (সিবিটি) এবং চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধের সাহায্যে সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
পুজোর আনন্দে শরীরের সমস্যাকে অবহেলা করবেন না। ভিড়ের মধ্যে অস্বস্তি হলে অন্যত্র নিরাপদ জায়গায় সরে আসার চেষ্টা করুন, প্রয়োজনে সাহায্য নিন। আর বুকে ব্যথা বা তীব্র শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসা শুরুতে একটুও দেরি করবেন না।
