চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মসজিদের মাইকে ‘ডাকাত আসবে’ বলে ঘোষণা দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানোর পর দুই যুবদল নেতার ওপর হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও বুকে গুলি করে তারেক হোসেন বাপ্পি (২৬) নামে এক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন তাফসির আলম শাওন (২২) নামে আরেক নেতা। সমুদ্র থেকে বালু উত্তোলন ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলা ছাত্রদল নেতা আরিফের সঙ্গে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অলিনগর মোড়ে যুবদল নেতা সাদ্দামের অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তারেক হোসেন বাপ্পি মধ্যম মাহদাবাদ এলাকার কুরবান আলীর বাড়ির মৃত আলী আহমদের ছেলে। আহত তাফসির আলম শাওন একই ইউনিয়নের অলিনগর এলাকার ইউসুফের ছেলে।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটেজে দুই যুবকের ওপর একদল লোকের হামলার দৃশ্য দেখা গেছে। দুই ভুক্তভোগীকে কোপানোর পর বাপ্পিকে গুলি করা হয় বলে জানা গেছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আরিফ ও তার অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, হামলার আগে মসজিদের মাইকে এলাকায় ডাকাত আসবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেই সুযোগে বাপ্পি ও শাওনের ওপর হামলা চালানো হয়।
বাপ্পির বড় বোনের অভিযোগ, মসজিদের মাইকে ডাকাত আসার ঘোষণা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে হত্যা করেছে ছাত্রদল নেতা আরিফ ও তার বাহিনী। আমার ভাইয়ের বুকে গুলি করেছিল আরিফ। আমি এ হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।
পরিবারের ভাষ্য, ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে কাজ করতেন বাপ্পি। দীর্ঘদিন ধরে সাদ্দামের সঙ্গে আরিফের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার রাতে সাদ্দামের অফিসে যাওয়ার পথে অলিনগর মোড়ে আগে থেকে পরিকল্পনা করে বাপ্পি ও শাওনের ওপর হামলা চালানো হয়।
বাপ্পির চাচাতো ভাই আবদুর নূর বলেন, সমুদ্রে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুদিন আগেও এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছিল। তখন অল্পের জন্য বেঁচে যান বাপ্পি। তার অভিযোগ, আরিফ, ফখরুল, জাফর ও ইমরানের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল এ হামলা চালায়।
হামলার পর স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাপ্পিকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সমুদ্র থেকে বালু উত্তোলন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের বিরোধ থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। ঘটনার পর শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, খবর পেয়ে রাতে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
