নাটোরে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছে আরও ৩০ জন। দুর্ঘটনার পর হতাহতদের উদ্ধারের সময় লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। আহত যাত্রী রাকিব হোসেনসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, তাদের চেতনা ফেরার পর কয়েকজনকে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও টাকা নিয়ে যেতে দেখেন। বাসে আটকে থাকায় তারা এ বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি। তবে দুর্ঘটনার পর কিছু মানুষ উদ্ধারকাজে সহযোগিতাও করেছেন।
এদিকে, আহতদের নাটোর ও রাজশাহীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট বিষয় তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বাসযাত্রী রাকিব হোসেন অভিযোগ করে বলেন, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন। এর আগে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি বাসের ভেতর থেকে যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা করছিলেন। তবে তাদের মধ্যে কিছু লোককে যাত্রীদের মোবাইল ফোন, ব্যাগ ও টাকা-পয়সা নিয়ে যেতেও দেখেছেন তিনি।

তিনি বলেন, বাসের সামনের দিকে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রীকে দুর্ঘটনার পর গাড়ির ভেতরে মৃত অবস্থায় দেখেন। ওই সময় তিনি নিজেও অসহায় অবস্থায় ছিলেন। নিজের জীবন বাঁচাবেন, নাকি সম্পদ রক্ষা করবেন—তা বুঝে উঠতে পারছিলেন না।
মালামাল লুটের বিষয়ে নাটোরের পুলিশ সুপারের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা ইতোমধ্যে আহত যাত্রীদের কাছ থেকে বিষয়টি শুনেছি এবং তারা আমাদেরকে বিষয়টির সম্পর্কে অবগত করেছে। বাস থেকে কিছু মালামালসহ ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরও বলেন, বাসে যে শুধু লুটপাট হয়েছে এমন নয়, অনেকেই এসে সাহায্য সহযোগিতাও করেছে। তবে কেউ যদি থানায় লিখিত অভিযোগ করে, আমরা অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
সাকিল হোসেন/এইচএস
