মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্য জেলার ক্রেতার কাছে বেশি দামে সার বিক্রির দায়ে এক সার সাব-ডিলারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় আটক করা ১১ বস্তা সার ঘটনাস্থলেই কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত সাব-ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে দৌলতপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। জরিমানাপ্রাপ্ত সাব-ডিলারের নাম হাবিবুর রহমান। তিনি দৌলতপুরের মেসার্স দীপু ট্রেডার্সের সাব-ডিলার।
দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রবীর বিশ্বাস জানান, টাঙ্গাইল জেলা থেকে আসা এক ক্রেতা শুক্রবার সকালে দৌলতপুর বাজারে ওই সাব-ডিলারের দোকান থেকে বেশি দামে ১১ বস্তা সার কেনেন। পরে সার নিয়ে যাওয়ার পথে সমেতপুর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা সেগুলো আটক করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এ সময় সাব-ডিলার হাবিবুর রহমান নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। পরে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী তাঁকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। আটক করা ১১ বস্তা সার ঘটনাস্থলেই কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রবীর বিশ্বাস আরও জানান, এ ঘটনার মাত্র এক দিন আগেই দৌলতপুর উপজেলার সব সার ডিলার ও সাব-ডিলারকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে একটি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ডিলার ও সাব-ডিলারদের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে ওঠা অভিযোগ ও বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রবীর বিশ্বাস বলেন, সতর্ক করার এক দিন পরই এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভবিষ্যতে কোনো ডিলার বা সাব-ডিলার এ ধরনের অপরাধে জড়িত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সারের বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং সার বিক্রিতে অনিয়ম বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
