জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে প্রশাসনের এ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে গরুভোজের আয়োজন করার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী, জকসু নেতা ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়।
এ নির্দেশনার প্রতিক্রিয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সমাজসেবা ও শিক্ষার্থীকল্যাণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘বিরানব্বই ভাগ মুসলিমের দেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই নিষিদ্ধ করে উপাচার্য কাকে খুশি করতে চান? আপনার এসব দালালি পাশের দেশে গিয়ে করেন। আগামীকালই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু কোরবানি হবে, ইনশাআল্লাহ। ডিসিশন ফাইনাল।’
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান আকাশ বলেন, ‘পূজার আগেই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে গরু নিয়ে মিছিল করে জবাই করে গরুভোজের আয়োজন করবে, ইনশাআল্লাহ। পারলে প্রশাসন ঠেকিয়ে দেখাক।’
এর আগে গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের সামনে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গরুর মাংসের খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করা হয়। মুক্তমঞ্চের পাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির থাকায় মন্দিরের সামনে গরুর মাংস রান্না করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা।
তবে অন্য শিক্ষার্থীরা এ অভিযোগ নাকচ করেন। তাঁদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একজন শিক্ষার্থী কী খাবেন বা কী করবেন, তা কোনো একক গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করে দিতে পারে না। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে পুনরায় বড় পরিসরে গরুভোজের আয়োজনের ঘোষণাও দেন তাঁরা।
এ পরিস্থিতিতে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে। বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে এ বিষয়ে অবগত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো।’
এতে আরও বলা হয়, নির্দেশনা অমান্য করা হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কর্তৃক প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ক্যাম্পাসে গরু জবাই ও মাংস রান্নাকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কের মধ্যে শিক্ষার্থীদের গরুভোজের ঘোষণা এবং প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
