নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমের রোপা আমন ধানের আবাদ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ায় নিচু জমিগুলোও ধীরে ধীরে চাষাবাদের আওতায় আসছে। ইতোমধ্যে রোপণ করা বিস্তীর্ণ আমন ক্ষেতজুড়ে দেখা দিয়েছে সবুজের সমারোহ। মৃদুমন্দ বাতাসে দুলছে ধানের সবুজ পাতা। আর ভালো ফলনের আশায় মাঠে মাঠে ফসলের নিবিড় পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ রোপা আমনের সবুজে ছেয়ে গেছে। কোথাও কৃষক আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কোথাও জমিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সার, বালাইনাশক ও আগাছানাশক প্রয়োগ করছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি মৌসুমে আমন ধানের ক্ষেত বেশ সতেজ ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ডিমলা উপজেলায় ২১ হাজার ১৪১ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের জন্য ১৬ হাজার ১৪১ হেক্টর এবং উফশী জাতের জন্য ৫ হাজার হেক্টর জমি নির্ধারণ করা হয়।
উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সুন্দরখাতা গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেন ও রবিউল ইসলাম জানান, বর্তমানে আমন ক্ষেতে আগাছা পরিষ্কার, সার প্রয়োগ ও বালাইনাশক ব্যবহারের কাজ চলছে। ধানের গাছের অবস্থাও খুব ভালো। শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর আশাতীত ভালো ফলন পাওয়া যাবে। তবে সার ও কৃষি উপকরণের দাম নিয়ন্ত্রণ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
বালাপাড়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শওকত আলী রেজা জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডে কৃষকদের নিয়ে উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠে গিয়ে ফসলের পরিচর্যা, সার প্রয়োগ ও পোকামাকড় দমনে সরাসরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) মীর হাসান আল বান্না বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে রোপা আমনের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কৃষকেরা যাতে সময়মতো প্রয়োজনীয় সার পান, সেজন্য বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে রোপা আমনের বাম্পার ফলন হবে এবং এতে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব
