আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঐতিহাসিক জয়ের পরই গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৭-কে সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে পরিচালনা করার লক্ষ্যে আগাম প্রস্তুতিতে জোর দিল রাজ্য সরকার। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের রবীন্দ্রভবনে প্রশাসনিক আধিকারিক ও পুলিশকর্তাদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আসন্ন গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং মুড়িগঙ্গা নদীতে ড্রেজিংয়ের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এই বৈঠকে। বিশেষ করে অতীতে ঘটে যাওয়া পদপিষ্টের মতো দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গঙ্গাসাগর মেলা বাংলার অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ। প্রতি বছর মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে পুণ্যস্নানের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ সাগরদ্বীপে উপস্থিত হন। ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম সামলানো প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। মেলা চলাকালীন যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং পুণ্যার্থীরা নির্বিঘ্নে পুণ্যস্নান সেরে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই আগাম প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এই প্রশাসনিক বৈঠক বলে জানা গিয়েছে।
বৈঠকে মূলত পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি, যাতায়াতের পথে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের মতো বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়। অতীতে গঙ্গাসাগর মেলায় পদপিষ্টের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আরও সতর্ক থাকতে চাইছে প্রশাসন। ভিড়ের চাপ সামলাতে আগাম পরিকল্পনা এবং প্রশাসন ও পুলিশের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে মুড়িগঙ্গা নদীর নাব্যতা বজায় রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাকদ্বীপের লট নম্বর ৮ থেকে সাগরদ্বীপের কচুবেড়িয়া পর্যন্ত যাতায়াতের জন্য নদীপথের উপর নির্ভর করতে হয় পুণ্যার্থীদের। মেলার সময় এই পথে বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত হয়। তাই ফেরি পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা এবং নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে মুড়িগঙ্গা নদীতে ড্রেজিংয়ের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। নদীর নাব্যতা বজায় রেখে যাতায়াত ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের উপর নজর দেওয়া হচ্ছে।
বৈঠক শেষে রাজ্যের দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী জানান, গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৭-এ মেলাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে মেলার প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মেলায় যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
পাশাপাশি, গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন দমকলমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, গঙ্গাসাগর মেলাকে আরও বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরতে এবং মেলার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে একাধিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৭-কে কেন্দ্র করে এখন থেকেই প্রস্তুতির রূপরেখা তৈরি করতে চাইছে রাজ্য সরকার। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পদপিষ্টের মতো দুর্ঘটনা এড়ানো, মুড়িগঙ্গার নাব্যতা বজায় রাখা এবং যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখাই প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। কাকদ্বীপের রবীন্দ্রভবনের এই বৈঠকের পর এখন নজর, পরিকল্পনাগুলি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং আগামী গঙ্গাসাগর মেলাকে কতটা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করে তুলতে পারে প্রশাসন।
https://www.youtube.com/watch?v=JwFdq_tA9cE
