ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে পাঁচজন চিকিৎসককে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পেয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (বকুল)।
শনিবার সকালে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন বিভাগ ও ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা, টিকা সংরক্ষণে অনিয়ম ও চিকিৎসাসেবার নানা সীমাবদ্ধতা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালের দিকে মুখে মাস্ক পরে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শনকালে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের চিকিৎসাসেবার খোঁজ নেন। হাসপাতালের উপস্থিতি খাতা যাচাই করে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির বিষয়টি জানতে পারেন তিনি।
এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রাহাত চৌধুরীকেও কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। তাঁর নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগের বিষয়েও প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।
হাসপাতালের নিচতলায় রান্নাঘরের পাশে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। শৌচাগার ও গোসলখানার অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন তিনি। দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল অবস্থা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ আট মাসেও এ সমস্যার উন্নতি না হওয়া দায়িত্বে অবহেলার পরিচয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
পরিদর্শনের সময় সরকারি বরাদ্দের টিকা ও ভ্যাকসিন যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করে নিচে ফেলে রাখা অবস্থায় দেখতে পান মন্ত্রী। এ ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সতর্ক করে টিকা ও ভ্যাকসিনের সঠিক সংরক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।
শিশু ওয়ার্ড পরিদর্শনকালে ভর্তি শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় শয্যা ও রেক্সিনের চাদরের ব্যবস্থা করতে বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় একটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রের অভাবে রোগীদের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করানোর সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। শয্যাসংকটের কারণে অনেক রোগীকে বারান্দায় কিংবা সিঁড়ির নিচে অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটের মধ্যেও চিকিৎসক, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও নার্সদের মাধ্যমে সেবা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (বকুল)। তিনি বলেন, আকস্মিক পরিদর্শনে পাঁচজন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়া গেছে। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে আরও কিছু অনিয়ম চোখে পড়েছে। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫১ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সুবিধা চালু এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া ইউনিয়ন সদর এলাকায় বহুতল পরিবার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং পুরোনো তিনটি ওয়ার্ডেও পরিবার হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিস সাধনা ত্রিপুরা(ইউএনও) , উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. সাদ মাহমুদ জয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
The post ফুলপুর হাসপাতালে পাঁচ চিকিৎসকের অনুপস্থিতি, বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ appeared first on Dhaka Protidin.
