সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও অংশ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে এ উৎসব উদযাপন করলে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হবে। সিলেটের মানুষ যুগ যুগ ধরে এ সম্প্রীতির ঐতিহ্য লালন করে আসছেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে সিলেট নগরের নাইওরপুলে রামকৃষ্ণ মিশনের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতির শহর সিলেটে প্রতিবছর উৎসাহ-উদ্দীপনা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়। এ ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পূজার সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো ধরনের সমস্যা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা সিটি করপোরেশনকে জানাতে হবে।
এদিন সিসিক প্রশাসক নগরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে পূজার সার্বিক প্রস্তুতি ও পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সড়কবাতি ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপনের জন্য সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। পূজার সময় নগরবাসীর চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সিসিকের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে সক্রিয় রাখা হয়েছে। যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধানে সিটি করপোরেশন পাশে থাকবে।
সরকারের অবস্থান তুলে ধরে সিসিক প্রশাসক বলেন, দেশের সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং উৎসবের পরিবেশ সুন্দর রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোথাও যাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে। পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটি, রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় এবারের দুর্গাপূজা শান্তি, সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সিসিক প্রশাসক।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী চন্দ্রনাথানন্দ মহারাজ, স্বামী পূর্ণব্রতানন্দ মহারাজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা পান্নালাল রায়, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মলয় পুরকায়স্থ, পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি সুব্রত দেব, জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপীকা শ্যাম পুরকায়স্থ চয়ন এবং মিরাবাজার সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি সৌমিত্র চৌধুরী শ্যাম।
