ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরুতে লিওনেল মেসির গোলসংখ্যা ছিল হতভম্ব করে দেওয়ার মতো। প্রতিপক্ষরা যেন এনিয়ে কথা বলার কোনো ভাষা খুঁজে পেত না। গত দুই দশক ধরে ইউরোপিয়ান ফুটবলে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের নাচিয়ে বেড়ানো দিদিয়ের দ্রগবাও একবার আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের গোলসংখ্যা জেনে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গিয়েছিলেন। সেই রোমাঞ্চকর গল্প এবার তিনি শোনালেন।
চেলসির সাবেক স্ট্রাইকার তার আত্মজীবনীতে ২০১২ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের আগের দিনের স্মৃতিচারণা করেছেন। যেদিন তৎকালীন কোচ রবার্তো দি মাত্তেও বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের গোলসংখ্যা খেলোয়াড়দের সামনে তুলে ধরছিলেন। স্পোর্ত সংবাদপত্র দ্রগবার সেই বক্তব্য প্রকাশ করেছে।
দ্রগবার উদ্ধৃতি দিয়ে তারা লিখেছে, ‘আমার গল্পটা ভালোভাবে মনে পড়ে। ওই সময়ের চেলসি কোচ দি মাত্তেও যা করেন, সেটাই করছিলেন। প্রতিপক্ষ দলের শীর্ষ গোলদাতার তালিকা দেখাচ্ছিলেন। সাধারণত ২২ গোল করা ওয়েন রুনি কিংবা রবিন ফ্যান পার্সি, যে ১৮ গোল করেছিল, সাধারণত তাদের নামই থাকত।’
প্রত্যেক ম্যাচের আগে একই নিয়ম চলত। ইতালিয়ান কোচ বোঝাতেন, তার খেলোয়াড়দের কতটা বিপজ্জনক খেলোয়াড়দের মুখোমুখি হতে হবে। তারপরই এলো পেপ গার্দিওলার বার্সেলোনা দলের এবং গোলের যে সংখ্যাটা শুনতে হলো তাতে হতভম্ব হয়ে পড়েছিলেন দ্রগবারা।
তিনি বলে গেলেন, ‘যখন বার্সেলোনার তালিকা এলো, জাভি ১৪ গোল করে তিনে ছিলেন। দ্বিতীয় জায়গায় ১৫ গোল করে ছিলেন অ্যালেক্সিস সানচেজ ও সেস ফেব্রিগাস। কিন্তু যখন তাদের দলের সর্বোচ্চ গোলদাতার নাম স্ক্রিনে এলো তখন আমরা হাসি আটকাতে পারছিলাম না। লিওনেল মেসির ৬৩ গোল, এর মধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৪টি।’
দ্রগবার মতে, মেসি ও তার সতীর্থদের মধ্যে গোলের এই পার্থক্য চেলসির ড্রেসিংরুমে অবিশ্বাস আর হাসির মাঝামাঝি জায়গায় ফেলে দিয়েছিল। ওই হাসি আর্জেন্টাইনকে খাটো করার জন্য ছিল না। আইভরি কোস্ট লিজেন্ড বললেন, ‘ওই মৌসুমেস ৬৩ গোল? এটা অবিশ্বাস্য একটা সংখ্যা যে আমরা একে অন্যের দিকে তাকালাম এবং বিশ্বাসই হচ্ছিল না, তাই হাসতে শুরু করলাম। আমরা আর কি-ই বা করতে পারতাম? এমনকি আমি গোলের সংখ্যার ছবিও তুলে নিয়েছিলাম, কারণ এটা সত্যিই আমার কাছে অদ্ভুত লেগেছিল।’
মেসি সেই মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে ৭৩ গোল করেছিলেন, এর মধ্যে ৫০টি লিগে যা ঐতিহাসিক রেকর্ড। ২০১২ সালে এক পঞ্জিকাবর্ষে বার্সেলোনা ও জাতীয় দলের হয়ে ৯১ গোলের তিনি গার্ড মুলারের আগের রেকর্ড ভেঙে দেন।
এফএইচএম
