আজকাল ওয়েবডেস্ক: কাতারে ডাকাতির ঘটনায় এক বছর পর সামনে এল কেরলের এক বিজেপি নেতার নাম। অভিযোগ, গত বছর কেরল থেকে কাতারে গিয়ে একটি সংস্থার অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা লুট করেছিলেন চার জন। সেই ঘটনায় এ বার কোঝিকোড়ের বিজেপি নেতা পরাপ্পিল বালকৃষ্ণন পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে এই ঘটনায় লুট হওয়া টাকার অঙ্ক নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন রহস্য। পুলিশের দায়ের করা এফআইআরে লুটের পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি টাকা বলা হলেও, সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওতে সেই অঙ্ক ২৫ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কাতারের দোহায় কেরল মুসলিম কালচারাল সেন্টার (কেএমসিসি)-এর আল তুমামা দপ্তরে ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, চার জন কেরল থেকে কাতারে গিয়ে দপ্তরের টাকা রাখার লকার ভেঙে ৩১ লক্ষ কাতারি রিয়াল নিয়ে পালিয়ে যান। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা। পরে অভিযুক্তেরা কেরলে ফিরে আসেন। প্রায় এক বছর ধরে এই ঘটনার তদন্তের কোনও অগ্রগতি না হলেও, বুধবার কোঝিকোড়ের কয়িলান্ডি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন বালকৃষ্ণন। তিনি পেশায় ওয়েল্ডার। গত বছর কয়িলান্ডি পুরসভার একটি ওয়ার্ড থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় নির্বাচনে লড়েছিলেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১৫ সেপ্টেম্বর এই ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হয়। তার ভিত্তিতে ডাকাতি এবং অন্যান্য অভিযোগে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়। বালকৃষ্ণন ছাড়াও অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছে রাশি, সালিহ, বম্বে শাজি, কামারুদ্দিন এবং হাসানের নামক ব্যক্তিরা। আত্মসমর্পণের পর বালকৃষ্ণনকে হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি অভিযুক্তেরা এখনও পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আত্মসমর্পণের আগে রেকর্ড করা একটি ভিডিওতে বালকৃষ্ণন দাবি করেছেন, ডাকাতির পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি প্রথমে কিছুই জানতেন না। শাজি বম্বে ওরফে শাহজাহান তাঁকে কাতারে কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই সূত্রেই তিনি সেখানে যান। কিন্তু দোহায় পৌঁছনোর পর তাঁকে একটি আবাসনে রাখা হয় এবং তাঁকে বাইরে বেরতে দেওয়া হত না বলে অভিযোগ। বালকৃষ্ণনের দাবি, একদিন তাঁকে কেএমসিসির দপ্তরে নিয়ে গিয়ে হুমকি দেওয়া হয় এবং লকার ভাঙতে বাধ্য করা হয়। লকার খোলার পর শাজি টাকা নিয়ে নেন। কামারু নামে এক ব্যক্তি গোটা ঘটনাটি পরিচালনা করছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। পরে শাজির ব্যবস্থা করা বিমানে কেরলে ফিরে আসেন বালকৃষ্ণন। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বালাষ্ণন। ভিডিওতে তিনি দাবি করেছেন যে, তাঁর প্রাণনাশের ভয় রয়েছে এবং তাঁকে জামিনে মুক্তি দেওয়া ঠিক হবে না।
এদিকে, সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আর একটি অডিওকে ঘিরে তদন্তে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। ওই অডিওতে শাজি ও কামারুর কথোপকথন রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সেখানে শাজিকে লুটের টাকার ভাগ দাবি করতে শোনা যায় বলে অভিযোগ। কথোপকথনে ২৫ কোটি টাকা কেরলে পাঠানোর দাবি করা হয়েছে। কিন্তু এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে লুট করা টাকার পরিমাণ ৮ কোটি। তবে অডিয়োর সত্যতা এবং সেখানে উল্লিখিত টাকার অঙ্ক যাচাই করেনি পুলিশ।
কেএমসিসি কাতারে বসবাসকারী কেরলবাসীদের নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠন। লুট হওয়া টাকা সংগঠনটির ‘স্নেহ সুরক্ষা’ প্রকল্পের জন্য রাখা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর টাকার পরিমাণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে সংগঠনের অন্দরেও প্রশ্ন উঠেছিল। পুলিশের বক্তব্য, ডাকাতির ঘটনা বিদেশে ঘটলেও অভিযুক্তেরা অপরাধের পর কেরলে ফিরে আসায় রাজ্যে মামলা দায়ের করা সম্ভব। বাকি অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ না করা পর্যন্ত গোটা ঘটনা স্পষ্ট হবে না।
