বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ১০ বছরেও অর্থ উদ্ধারে অগ্রগতি নেই। চূড়ান্ত হয়নি সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনও। তবে অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে এখনো আশাবাদী বাংলাদেশ ব্যাংক। সিআইডি বলছে, যাদের গাফিলতি ও যোগসাজশ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। দুই দেশের আইনি দিক বিবেচনা করে অর্থ উদ্ধারে তৎপর হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে হ্যাকাররা ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করে নেয়। যা চলে যায় ফিলিপাইনের আরসিবিসির বিভিন্ন একাউন্টে। চুরি হওয়া সেই অর্থ মিশে যায় দেশটির ক্যাসিনোতে। পরে সেখান থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করা হয়।
চুরির ঘটনার ৩৯ দিন পর মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পর এক দশক পরেও শেষ হয়নি সিআইডির তদন্ত। এ পর্যন্ত ৯৮ বার পিছিয়েছে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ। তদন্তকারী সংস্থা বলছে, নতুন প্রতিবেদন শেষ পর্যায়ে থাকায় দ্রতই আদালতে জমা দেওয়া হবে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) ছুফি উল্লাহ বলেন, ‘তদন্ত চলমান রয়েছে। খুব দ্রুত আমরা প্রতিবেদন জমা দেব।’
চুরি হওয়া রিজার্ভের প্রায় ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার অর্থ উদ্ধার হয়নি। এসব অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনে আইনি কার্যক্রম চালাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘ফিলিপাইনে ব্যাংকের বিরুদ্ধে যে রায় এসেছে, যে টাকা বাংলাদেশে ফেরত আসার কথা, সেটি কেন এখনো আসছে না, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশেষ করে বিএফআই যথেষ্ট সচেষ্ট আছে। তারা দেখছে কোন প্রসেসের মাধ্যমে গেলে দ্রুত টাকাটা দেশে ফেরত আসবে।’
অর্থনীতিবিদ এম কে মুজেরী বলেন, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে এগুলো যাতে চার্জশিট, প্রতিবেদন যাতে দাখিল করা সম্ভবপর হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় যে ব্যবস্থা তা যেন নেওয়া হয়।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ১৯ অক্টোবর জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।
