ফেসবুকে ইসলাম ও নবী মহম্মদকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য। অভিযোগ ওঠে শ্রীলঙ্কান হিন্দু পরিযায়ী শ্রমিক আনোজান শিবরাসার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় প্রাথমিকভাবে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল সৌদি আরবের সর্বোচ্চ আদালত। যদিও শ্রীলঙ্কা সরকারের কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপে কাজ হল। মৃত্যুদণ্ড খারিজ করেছে সৌদি সুপ্রিম কোর্ট।
শ্রীলঙ্কার বিদেশ মন্ত্রক, বিদেশে কর্মসংস্থান এবং পর্যটন দপ্তর জানিয়েছে, গত ১৩ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় সৌদি আদালত। যদিও কলম্বোর উদ্যোগের পর ১৪ অক্টোবর ওই নির্দেশিকা খারিজ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের সুপ্রিম কোর্ট। জানা গিয়েছে, শ্রীলঙ্কায় গত জুন মাসের শেষের দিকে একটি হিন্দু তীর্থযাত্রাকে কেন্দ্র করে ঘটনায় বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন ২৪ বছরের শিবরাসা। ওই সময় সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছিল, হিন্দু তীর্থযাত্রীদের অনুসরণকারী একটি কুকুরকে লাথি মারছেন একজন মুসলিম যুবক। এই ঘটনা উত্তপ্ত বিতর্কের জন্ম দেয়।
অনলাইনে তর্ক-বিতর্কের সময় এক ব্যক্তি হিন্দু দেব-দেবী সম্পর্কে ‘অবমাননাকর’ মন্তব্য করেন। এর জবাবে নবী মহম্মদকে নিয়ে তামিল ভাষায় একটি আপত্তিকর মন্তব্য করার অবিযোগ শিবরাসার বিরুদ্ধে। যদিও এরপরেই তিনি বিতর্কিত মন্তব্যটি মুছে ফেলেন। একটি ক্ষমা চাওয়ার ভিডিও প্রকাশ করেন। শিবরাসা মন্তব্যটি ডিলিট করলেও সেটির স্ক্রিনশট সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এখানেই শেষ হয়নি বিষয়টি। শ্রীলঙ্কার কয়েকজন ব্যক্তি সৌদি আরবে শিবরাসার নিয়োগকর্তাকে মেল করে সমস্ত ঘটনা জানান। এরপরেই যুবককে গ্রেপ্তার করে তাঁর যাবতীয় গ্যাজেটগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়, সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলিও মুছে ফেলা হয়।
গত ১৫ জুলাই আল আহসা ফৌজদারী আদালত শিবরাসার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ৮০ লক্ষ ডলার জরিমানা করেছিল। পরবর্তীতে মৃত্যদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার পর নড়চড়ে বসে শ্রীলঙ্কা সরকার। একাধিক কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপের পর ১৪ অক্টোবর আনোজান শিবরাসার মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ খারিজ করে সৌদি সুপ্রিম কোর্ট।
