Published on
:
2 min read
দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলির মধ্যে ব্যবসা এবং সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধ নতুন কিছু নয়। রিলায়েন্স থেকে শুরু করে হিরো—দেশের বড় শিল্প পরিবারগুলির ব্যবসায়িক বিরোধ নানা সময়ে সংবাদপত্রের শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছে। এ বার সেই তালিকায় নাম জুড়ল টিভিএস গোষ্ঠীরও। এক দিকে টিভিএস মোটর কোম্পানির চেয়ারম্যান এমিরেটাস বেণু শ্রীনিবাসন এবং তাঁর ছেলে সুদর্শন বেণু, অন্য দিকে, বেণুর স্ত্রী মল্লিকা শ্রীনিবাসন ও মেয়ে লক্ষ্মী বেণু। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধের মূল বিষয়, অতীতে বিভিন্ন সময়ে হওয়া চুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে আদৌ কি পারিবারিক সম্পত্তির মালিকানা ভাগ হয়ে গিয়েছে, নাকি ব্যবসা পরিচালনা এবং বিভিন্ন সংস্থা ও ব্র্যান্ডের দায়িত্বই শুধু ভাগ করা হয়েছে? সম্প্রতি মল্লিকা ও লক্ষ্মী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পরিবারের মধ্যে এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত আর্থিক নিষ্পত্তি হয়নি। সম্পত্তি ভাগ হয়ে গিয়েছে বলে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে একমত নন তাঁরা। বরং সম্পত্তির ন্যায্য ভাগাভাগি নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আলোচনার ভিত্তিতে সমাধানের দাবি জানিয়েছেন মা ও মেয়ে।
ভারতের গাড়ি ও মোটরবাইক শিল্পে টিভিএস গোষ্ঠী একটি পরিচিত নাম। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন বেণু শ্রীনিবাসন। ১৯৭৯-তে তিনি সুন্দরম-ক্লেটনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর নেতৃত্বে পরিবারের অটোমোবাইল ব্যবসা দেশের দুই চাকার গাড়ির বাজারে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নেয়। বর্তমানে তিনি টিভিএস মোটর কোম্পানির চেয়ারম্যান এমিরেটাস। পাশাপাশি টাটা ট্রাস্টস-এর ভাইস চেয়ারম্যান এবং টাটা গোষ্ঠীর হোল্ডিং সংস্থা টাটা সন্স-এর পরিচালন পর্ষদে নমিনি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তাঁর ছেলে সুদর্শন বেণু টিভিএস মোটর কোম্পানির চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর। অন্য দিকে, মেয়ে লক্ষ্মী বেণু ট্র্যাক্টরস অ্যান্ড ফার্ম ইক্যুইপমেন্ট লিমিটেড বা টাফের ভাইস চেয়ারপার্সন। টাফের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মল্লিকা শ্রীনিবাসনও দেশের কৃষিযন্ত্র এবং ট্র্যাক্টর শিল্পের অন্যতম পরিচিত নাম।
পরিবারের অন্দরের এই বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে ব্যবসা পরিচালনার অধিকার এবং সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানার মধ্যে পার্থক্য। বেণু শ্রীনিবাসনের বক্তব্য, পরিবারের দুই সন্তানের মধ্যে ব্যবসায়িক দায়িত্ব ও বিভিন্ন সংস্থার কাজকর্ম ভাগ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সূত্রে সুদর্শন টিভিএস মোটর ও টিভিএস হোল্ডিংস-এর সঙ্গে যুক্ত। অন্য দিকে লক্ষ্মীর সঙ্গে সুন্দরম-ক্লেটন এবং পরিবারের অন্য ব্যবসায়িক স্বার্থের যোগ রয়েছে। কিন্তু, মল্লিকা ও লক্ষ্মীর বক্তব্য, কে কোন সংস্থা পরিচালনা করবেন, সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে পরিবারের সম্পদের আর্থিক মালিকানা ভাগ হয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে এক করে দেখা যায় না। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সম্পত্তির মূল্যায়ন করা হয়নি। পরিবারের সমস্ত সম্পত্তি কোনও এক ব্যক্তির একক মালিকানাধীন বলে ধরে নিয়ে তিনি একতরফা ভাবে তা ভাগ করে দিতে পারেন, এমন ধারণারও বিরোধিতা করেছেন তাঁরা।