জিন জাতির মধ্যে কি কোনো নবি-রাসুল ছিলেন?
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->জিন জাতি নিয়ে আমাদের মনে জমে থাকে হাজারো কৌতূহল। অদৃশ্য এই সৃষ্টি সম্পর্কে কোরআনেও রয়েছে বিশেষ আলোচনা। কিন্তু একটি প্রশ্ন প্রায়ই মনে উঁকি দেয়, মানুষের মতো কি জিনদের মধ্যেও কোনো নবি বা রাসুল প্রেরিত হয়েছিলেন? আর জিনদের মধ্যে কি নর-নারীর পার্থক্য রয়েছে? চলুন, সঠিক উত্তর জেনে নিই।
প্রশ্ন: জিন জাতির মধ্যে আল্লাহতায়ালা কি কোনো নবি-রাসুল প্রেরণ করেছেন? আর জিনদের মধ্যে কি নর ও নারী উভয়ই বিদ্যমান?
উত্তর: ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী স্পষ্টভাবে জানা যায়, জিন জাতির মধ্য থেকে আল্লাহতায়ালা কোনো নবি বা রাসুল প্রেরণ করেননি। নবি ও রাসুল প্রেরণের এই সম্মান একমাত্র মানবজাতিকেই দেওয়া হয়েছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, জিন জাতি আল্লাহর বিধান থেকে মুক্ত। বরং তাদের ওপরও শরিয়তের বিধান পুরোপুরি প্রযোজ্য। এ জন্য আল্লাহতায়ালা এক অভিনব ব্যবস্থা করেছেন, মানুষ ও জিন উভয় জাতির হেদায়াতের দায়িত্ব দিয়েছেন মানুষের মধ্য থেকে প্রেরিত নবিদের ওপর। অর্থাৎ মানবজাতির নবিরাই জিন জাতির জন্যও পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছেন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, জিন জাতির মধ্যেও মানুষের মতোই নর ও নারী উভয় শ্রেণি বিদ্যমান এবং তাদের মধ্যে সন্তান জন্মদানের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াও রয়েছে। অর্থাৎ জিন জাতিও মানুষের মতোই একটি পূর্ণাঙ্গ সৃষ্টি, যাদের রয়েছে নিজস্ব বংশবিস্তারের ধারা।
এই আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি, আল্লাহতায়ালার সৃষ্টিজগৎ কতটা বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময়। দৃশ্যমান মানুষ ছাড়াও অদৃশ্য জগতে রয়েছে আরেকটি সৃষ্টি, যারা আল্লাহর হুকুম-আহকামের অধীন এবং যাদের হেদায়াতের জন্যও রয়েছে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা, যা আল্লাহর অসীম কুদরত ও ইনসাফের এক অনন্য নিদর্শন।
(আকামুল মারজান ফি আহকামিল জান্ন-৪৮)
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক
আরও পড়ুন
ইসলাম কি সম্প্রীতির বিরোধী?
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->বিষয়টি ভুলভাবে বুঝলে মনে হতে পারে, ইসলাম ভিন্ন ধর্মের প্রতিবেশীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করতে চায়। কিন্তু কোরআন ও রাসুল (সা.)-এর জীবন তা বলে না। ইসলামের শিক্ষা হলো নিজের বিশ্বাসে অটল থাকা এবং সবার সঙ্গে ন্যায় ও সদাচরণ করা।
কোরআন কী বলে?
১. ভিন্ন ধর্মের শান্তিপ্রিয় মানুষের প্রতি সদাচরণ
দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না। (সূরা আল-মুমতাহিনা, ৮)
২. অন্যের বিশ্বাসকে অসম্মান না করা
আল্লাহ ছাড়া তারা যাদের ডাকে, তাদের তোমরা গালি দিয়ো না। (সুরা আল-আনআম, ১০৮)। অন্য ধর্মের বিশ্বাস ও প্রতীকের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখানো ইসলামসম্মত নয়।
৩. ধর্মে জবরদস্তি নেই
দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। (সুরা আল-বাকারা, ২৫৬)
৪. শত্রুতার মধ্যেও ন্যায়বিচার
কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদের ন্যায়বিচার থেকে বিরত না রাখে। (সুরা আল-মায়িদা, ৮)
৫. প্রতিবেশীর অধিকার
সুরা আন-নিসার ৩৬ নম্বর আয়াতে নিকট ও দূরের প্রতিবেশীর প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশ এসেছে। এতে প্রতিবেশীর ধর্ম বা পরিচয়ের কোনো শর্ত নেই।
রাসুল (সা.)-এর জীবনে সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত তার মদিনা সনদে অনন্য ভাবে উল্লেখ করেছেন: মদিনায় মুসলিম, ইহুদি ও অন্যান্য গোষ্ঠীকে নিয়ে একটি যৌথ সামাজিক চুক্তি করা হয়েছিল। এতে সবার নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা হয়। নাজরানের খ্রিষ্টানদের সঙ্গে চুক্তিতে তাদের জানমাল ও উপাসনার স্বাধীনতার নিরাপত্তা দেওয়া হয়। আর প্রতিবেশীর অধিকার আদায়ে রাসুল (সা.) বলেছেন, জিবরাইল (আ.) প্রতিবেশীর অধিকার নিয়ে এত বেশি তাগিদ দিতেন যে তার মনে হয়েছিল প্রতিবেশীকে উত্তরাধিকারীই করে দেওয়া হবে। (বুখারি,৬০১৪)
নীতিগত অবস্থান ও বিদ্বেষ এক জিনিস নয়
ভিন্ন ধর্মের আচার অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়া উত্তম। এটি নিজের বিশ্বাসের প্রতি আনুগত্যের প্রমাণ। কোরআনের ভাষায়, তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন, আমার জন্য আমার দ্বীন। (সুরা আল-কাফিরূন, ৬)। প্রতিটি ধর্মের অনুসারীরই নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী চলার অধিকার আছে। একে সম্মান করাই প্রকৃত সহাবস্থান। আচারে অংশ না নিয়েও প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা পুরোপুরি সম্ভব।
সম্প্রীতি জোরদার করার বৈধ ও কার্যকর পথ
মুসলিম ব্যক্তি সংগঠন ও ধর্মীয় আচারে যুক্ত না হয়েও সম্প্রীতি মজবুত করতে পারে। মানবিক সহায়তা করা যেমন: অসুস্থতা, দুর্যোগ, দুর্ঘটনা বা দারিদ্র্যে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার পাশে দাঁড়ানো। তাদের উৎসবের সময় এলাকায় শান্তি বজায় রাখা এবং কেউ যেন হামলা বা উসকানির শিকার না হয় তা নিশ্চিত করা। এটি নাগরিক ও নৈতিক দায়িত্ব। ভদ্র ও সৌজন্যমূলক আচরণ, যা আকিদার বিরোধী নয়। যৌথ সমাজকল্যাণ প্রকল্পে রাস্তা মেরামত, পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যশিবির বা শিক্ষা কার্যক্রমে সবাইকে নিয়ে কাজ করা।
ইসলাম বিশ্বাসে দৃঢ় থাকতে শেখায়, আবার আচরণে উদার হতে বলে। মুসলিমের পরিচয় শুধু ইবাদতে নয়, প্রতিবেশীর নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার মধ্য দিয়েও ফুটে ওঠে। সম্প্রীতির এই পথই ইসলামের সুমহান আদর্শের বাস্তব প্রতিফলন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক
আরও পড়ুন
পূজার জন্য চাঁদা তোলা কি মুসলিম যুবকদের সামাজিক দায়িত্ব?
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩২ এএম
আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->এলাকার কয়েকজন যুবক মিলে গড়ে তোলা সামাজিক সংগঠনগুলো সাধারণত শীতবস্ত্র বিতরণ, রক্তদান, বন্যাত্রাণ ও শিক্ষা সহায়তার মতো কাজ করে। উৎসবের মৌসুমে অনেক সময় তাদের সামনে একটি প্রশ্ন আসে: বিভিন্ন পূজামণ্ডপের জন্য চাঁদা তোলা, চাঁদা দেওয়া কিংবা এ কাজে সহযোগিতা করা কি শরিয়তসম্মত?
উত্তরের শুরুতেই একটি প্রশ্ন জরুরি: সংগঠনের সদস্যরা কোন ধর্মের অনুসারী? কারণ বিধান নির্ভর করে করছেন কে এবং কী উদ্দেশ্যে, তার ওপর।
১. মুসলিমদের জন্য মূল বিধান
প্রচলিত ও প্রধান ফিকহি মতে, মুসলিমের জন্য অন্য ধর্মের উপাসনা বা ধর্মীয় আচারের খরচ বহন করা, সেজন্য চাঁদা সংগ্রহ করা বা চাঁদা দেওয়া বৈধ নয়। এর পেছনে কয়েকটি মৌলিক নীতি কাজ করে।
ক. ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্যের নীতি। কোরআনে বলা হয়েছে, তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন, আমার জন্য আমার দ্বীন। (সুরা আল-কাফিরুন,৬)। এই আয়াত প্রত্যেকের ধর্মপালনের স্বাধীনতা স্বীকার করে, আবার নিজের বিশ্বাসের সীমানাও স্পষ্ট করে। অন্যের উপাসনার আয়োজনে অংশ নেওয়া এই সীমানা অস্পষ্ট করে দেয়।
খ. পাপের কাজে সহযোগিতা নিষেধ। আল্লাহ বলেন, তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো; পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করো না। (সুরা আল-মায়িদা,২)। ইসলামের তাওহিদি বিশ্বাস অনুযায়ী মূর্তিপূজা শিরক। তাই এর আয়োজনে অর্থ দিয়ে সহায়তা করা এই আয়াতের নিষেধের আওতায় পড়ে বলে ফকিহগণ মনে করেন।
গ. ইমানের সুরক্ষা। অন্য ধর্মের উৎসবে আর্থিক অংশগ্রহণ থেকে আকিদাগত বিভ্রান্তির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এ কারণে আলেমগণ এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন।
২. যদি সংগঠনে অমুসলিম সদস্য থাকেন
সংগঠনে হিন্দু ধর্মাবলম্বী সদস্য থাকলে তারা নিজেদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে চাঁদা তুলতে পারেন। এটি তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতার অংশ, যা ইসলাম স্বীকৃতি দেয়। কোরআন বলছে, দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। (সুরা আল-বাকারা, ২৫৬)। তবে শর্ত হলো: মুসলিম সদস্যরা এই চাঁদা সংগ্রহে বা আদায়ে অংশ নেবেন না। চাঁদা দাতারা হবেন অমুসলিম সম্প্রদায়ের লোক। এই কাজ মুসলিমদের সামাজিক সংগঠনের তহবিল বা নামের সঙ্গে মিশে যাবে না।
মুসলিমদের জন্য পূজার চাঁদা তোলা বা দেওয়া প্রধান ফিকহি মতে জায়েজ নয়। অমুসলিম সদস্যরা নিজেদের সম্প্রদায়ের মধ্যে এটি করতে পারেন। অন্যদিকে সাধারণ মানবিক ও সামাজিক সহযোগিতায় কোনো বাধা নেই, বরং তা উৎসাহিত। নিজের বিশ্বাসে অটল থেকে প্রতিবেশীর প্রতি ন্যায় ও সদাচরণ বজায় রাখাই ইসলামের শিক্ষা।
আরও পড়ুন
রহমান আবার কে? যে প্রশ্নের জবাবে নাজিল হলো একটি পূর্ণ সুরা
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->কোনো নাম শুনে যদি কেউ বলে ওঠে, একে তো চিনি না, তা হলে তার জবাবে কী বলা উচিত? আল্লাহ এর উত্তর দিয়েছেন একটি পুরো সুরা দিয়ে, যার শুরুতেই আছে তাঁর সবচেয়ে মমতাময় নাম: আর-রহমান।
সুরা আর-রহমানের প্রথম দুই আয়াতে বলা হয়েছে, পরম করুণাময় আল্লাহ মানুষকে কোরআন শিখিয়েছেন। লক্ষণীয় বিষয় হলো, সুরা শুরু হয়েছে ‘রহমান’ নামে, আর প্রথম নিয়ামত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে কোরআনের শিক্ষাকে। অর্থাৎ আল্লাহর রহমতের সবচেয়ে বড় প্রকাশ হলো মানুষকে পথ দেখানো।
আয়াত নাজিলের কারণ
সুরাটি মক্কায় অবতীর্ণ বলে অধিকাংশ মুফাসসির মত দিয়েছেন। তখন মুসলমানরা ছিলেন সংখ্যায় কম, আর কুরাইশ নেতারা প্রতিটি বিষয়ে আপত্তি তুলত। আল্লাহর একত্ববাদ নিয়ে তাদের অস্বস্তি ছিল, এমনকি তাঁর নামগুলো নিয়েও। এই পরিবেশেই আল্লাহর অনুগ্রহ ও ক্ষমতার পরিচয় তুলে ধরতে সুরাটি নাজিল হয়।
শানে নুজুল
তাফসিরে কুরতুবিতে বর্ণিত আছে, কাফেররা মুসলমানদের মুখে রহমান শব্দ শুনে বলাবলি করত, রহমান আবার কী? আমরা তো রহমানকে চিনি না। তাদের এই অজ্ঞতা দূর করতে এবং আল্লাহর পরিচয় স্পষ্ট করতেই আয়াতগুলো নাজিল হয়। এ বিষয়ে সুরা ফুরকানের ৬০ নম্বর আয়াতেও অনুরূপ প্রসঙ্গ এসেছে। তবে মুফাসসিররা বলেন, আয়াতের শিক্ষা কোনো ঘটনায় সীমাবদ্ধ নয়।
আজও অনেকে আল্লাহকে শুধু শাস্তিদাতা হিসেবে ভাবে, আবার অনেকে তাঁকে একেবারেই ভুলে থাকে। এই সুরা বলছে, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, কথা বলতে শিখিয়েছেন, সূর্য-চাঁদ-গাছপালায় সাজিয়েছেন, তিনি অসীম দয়ালু। সুরার বারবার ফিরে আসা প্রশ্ন, তোমরা তোমাদের রবের কোন নিয়ামত অস্বীকার করবে? আমাদের কৃতজ্ঞতার অভ্যাস গড়তে শেখায়।
কোরআন তাই শুধু পড়ার গ্রন্থ নয়; এটি রহমানের পক্ষ থেকে পাঠানো সবচেয়ে বড় উপহার। এর কদর করাই সেই করুণার প্রতি যথার্থ জবাব।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক
আরও পড়ুন
পূজার প্রসাদ খাওয়া যাবে কি?
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->এখন দুর্গাপূজার সময়। এ সময় অনেক মুসলিমের মনেই প্রশ্ন আসে, পূজায় অর্পিত খাবার বা প্রসাদ খাওয়া যাবে কি না। হিন্দু-মুসলিম আমাদের বহুদিনের প্রতিবেশী, তাই ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও খাদ্যরীতি নিয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।
ইসলামি দৃষ্টিতে বিধান
ইসলামি আলেমদের প্রসিদ্ধ ও প্রধান মত হলো, কোনো দেব-দেবীর নামে উৎসর্গ করা খাবার বা পূজার প্রসাদ গ্রহণ করা মুসলিমের জন্য অনুচিত ও নিষিদ্ধ। কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ হারাম করেছেন মৃত জীব, রক্ত, শূকরের মাংস এবং যার ওপর আল্লাহ ছাড়া অন্যের নাম উচ্চারিত হয়েছে (সুরা বাকারা, ১৭৩)
খাবারের উপাদান যাই হোক, আসল বিষয় হলো সেটি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে নিবেদিত হয়েছে কি না। নিবেদিত হয়ে থাকলে তা থেকে বিরত থাকাই ইসলামের নীতি। আর উৎসর্গ করা হয়নি এমন সাধারণ হালাল খাবার অমুসলিম প্রতিবেশীর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া বা উপহার হিসেবে গ্রহণ করা ইসলামি শিষ্টাচারের পরিপন্থী নয়।
বিভ্রান্তি কেন ছড়ায়
পূজার সামগ্রী ও আচার নিয়ে অনেক ভুল ধারণা সমাজে চালু আছে। এর বড় কারণ দুই ধর্মের পরিভাষা ও রীতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণার অভাব। তাই কোনো খাবার সম্পর্কে সন্দেহ হলে ভদ্রভাবে জিজ্ঞেস করে নেওয়াই ভালো যে সেটি পূজায় নিবেদন করা প্রসাদ কি না। সাধারণভাবে বিতরণ করা বা আলাদা করে রান্না করা খাবার আর নিবেদিত প্রসাদ এক জিনিস নয়।
সম্প্রীতি ও নিজের বিশ্বাসের ভারসাম্য
প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা, সৌজন্য দেখানো ও বিপদে পাশে দাঁড়ানো ইসলামের শিক্ষা। কিন্তু সম্পর্ক রক্ষা করতে গিয়ে নিজের বিশ্বাসের সীমা পেরিয়ে যাওয়া উচিত নয়। উৎসবের এই সময়ে সম্পর্ক ও বিশ্বাস দুটোই ঠিক রাখার উপায় হলো নম্রভাবে প্রসাদ গ্রহণ না করা এবং আন্তরিকতা বজায় রাখা।
প্রসাদ দিলে কীভাবে ফিরিয়ে দেবেন?
পূজার এই দিনগুলোতে কেউ প্রসাদ দিলে শান্ত ও বিনয়ী ভাষায় বলতে পারেন, আপনার ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ। আমার ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে আমি পূজার প্রসাদ খাই না, কিছু মনে করবেন না। আপনাদের উৎসব আনন্দময় হোক। হাসিমুখে শুভেচ্ছা জানিয়ে এভাবে বললে কেউ আঘাত পান না। নিজের বিশ্বাসের কথা স্পষ্ট অথচ ভদ্রভাবে জানালে সম্পর্কও অটুট থাকে, ধর্মীয় নীতিও রক্ষা হয়।
