জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে চলা বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ায় দেশজুড়ে প্রায় এক হাজার মানুষকে আটক করেছে ফরাসি পুলিশ। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আন্দোলন চলাকালে চরমপন্থি উগ্র-বামপন্থি গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ‘অত্যন্ত উচ্চমাত্রার সহিংসতা’ চালানো হয়েছে। খবর এএফপির।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন শহরে মূল বিক্ষোভগুলো শান্তিশৃঙ্খলা মেনে চললেও শেষ মুহূর্তে অতি-বামপন্থি গোষ্ঠীগুলো পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও পটকা-আতশবাজি ছুড়ে সংঘাত উসকে দেয়। সহিংসতার ঘটনায় তুলুজ ও ক্লেরমন্ট-ফেরান্দে এলাকায় অন্তত দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এর মধ্যে তুলুজে ২০ বছর বয়সী এক যুবকের আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
গত সপ্তাহের তুলনায় সার্বিক সহিংসতার মাত্রা কম উল্লেখ করে নুনিয়েজ জানান, আগের সপ্তাহে প্রায় দুই হাজার ৭০০ জনকে আটক করা হয়েছিল এবং বহু দোকানপাটে লুটপাট চালানো হয়েছিল। সে তুলনায় এবার শপিং সেন্টার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম।
রাজধানী প্যারিসে মূল পদযাত্রাটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও শেষ দিকে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সেখানে প্রায় ৫০০ জন চিহ্নিত দাঙ্গাবাজসহ কয়েক হাজার উগ্র অ্যাক্টিভিস্ট একত্রিত হয়ে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
এ ছাড়া কান ও মন্তপেলিয়ে শহরে প্রথমবারের মতো অতি-ডানপন্থি অ্যাক্টিভিস্টদেরও রাস্তায় নামতে দেখা গেছে, যারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রক্ষার অজুহাতে কিংবা অতি-বামপন্থিদের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর চেষ্টা চালিয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোববার (২৫ অক্টোবর) পর্যন্ত পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
