যে জার্সি গায়ে জড়িয়ে অসংখ্যবার দেশের কোটি মানুষের আবেগ হয়ে উঠেছেন, সেই জার্সির সঙ্গেই এবার তৈরি হলো দূরত্ব। অভিমান, ক্ষোভ আর না বলা অভিযোগের টানাপোড়েনে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। কোচের সঙ্গে বিরোধের জেরে অবশেষে শাস্তির মুখে পড়েছেন এই পর্তুগিজ তারকা। এ ঘটনায় তাকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি ২৫৫ ইউরো জরিমানা করেছে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার ৩০০ টাকা। শাস্তির এই কঠিন অধ্যায় পেরিয়ে পর্তুগালের হয়ে আবারও মাঠে ফিরতে পারবেন কি এই কিংবদন্তি?
আজ (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল জানায়, ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বদলি খেলোয়াড়দের বেঞ্চে বসে থাকতে হয় রোনালদোকে। এরপর পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুস তার ভূমিকা নিয়ে দুবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা করেননি বলে অভিযোগ করেন এই তারকা। এর জের ধরে ডেনমার্কের বিপক্ষে নেশন্স লিগের ম্যাচের আগে কোপেনহেগেনে দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান তিনি।
তবে রোনালদোর সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা হয়েছে বলে অস্বীকার করেছেন জেসুস। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় দলে রোনালদোর ফিরে আসার সুযোগ এখনও রয়েছে।
অন্যদিকে, নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সমর্থকদের অভিবাদন না জানিয়ে এবং সতীর্থদের রেখে চলে যাওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন রোনালদো। তিনি আরও জানান, এ ঘটনার জন্য যে শাস্তিই দেওয়া হোক না কেন, তা মেনে নিয়ে আবারও জাতীয় দলের হয়ে খেলতে প্রস্তুত তিনি।
ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিলের ভাষ্য অনুযায়ী, রোনালদো ইচ্ছাকৃতভাবে সংস্থাটির শৃঙ্খলাবিধি লঙ্ঘন করেছেন। তবে বিবৃতিতে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ঠিক কোন কোন ম্যাচ বা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইতোমধ্যে কাটানো সময় শাস্তির মেয়াদ থেকে বাদ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়েও কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
এদিকে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা জানিয়েছেন, চলমান পরিস্থিতির সমাধান হলে ফেডারেশনের সবাই রোনালদোকে আবারও জাতীয় দলে দেখতে চান। আগামী ১৫ নভেম্বর ডেনমার্কের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে পর্তুগাল।
