বগুড়ার ১১ উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় স্থানীয় আবেদনকারীদের মধ্যে তীব্র অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। ২৪ সেপ্টেম্বর জেলা কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে সার ডিলারদের তালিকা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো ওই ১১ উপজেলার তালিকা প্রকাশিত হয়নি।
কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ৬ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখার কৃষি অর্থনীতিবিদ শাহনাজ আক্তার স্বাক্ষরিত এক স্মারকের মাধ্যমে কেবল শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে মোকামতলার আট ইউনিয়নে আটজন এবং শিবগঞ্জের ৯ ইউনিয়নে ৯ জন ডিলার নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে এর বাইরে বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ জেলার অন্য ১১ উপজেলার ১৪১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার তালিকা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।
সার সরবরাহ ব্যবস্থাপনা অধিকতর জোরদার করার লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় একজন করে সার ডিলার নিয়োগের এই উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। নীতিমালা অনুযায়ী, আগ্রহীরা আবেদনের সঙ্গে দুই হাজার টাকা অফেরতযোগ্য ফি এবং ১০ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য জামানত জমা দেন। জেলার ১৩টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন পদের বিপরীতে মোট ১ হাজার ২৬৬ জন প্রার্থী আবেদন করেন। প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম ধাপে আট শতাধিক আবেদনকারী বাদ পড়লেও সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। এছাড়া অর্থ লেনদেন ও পূর্বনির্ধারিত তালিকার ভিত্তিতে প্রার্থী ছাঁটাইয়ের গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগী আবেদনকারীরা।
সারাদেশে ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ায় বগুড়ার বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করছে সরকার। জেলা কমিটির ১২ সদস্যের একটি প্যানেল এই পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করছে। কমিটিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ কৃষি খাতের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। জেলা কমিটির সদস্য ও বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিটি পদের বিপরীতে তিনজনের নামের তালিকা ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। তবে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা বাদে বাকি ১১ উপজেলার বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা আসেনি।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার এই দীর্ঘসূত্রিতায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন ডিলার পদপ্রার্থীরা। কাঙ্ক্ষিত তালিকা প্রকাশ ও অনিশ্চয়তা দূর করতে অনেকেই স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই স্থবিরতা কাটছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাকি উপজেলাগুলোর তালিকা প্রকাশ করে যোগ্য ডিলারদের দ্রুত নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী আবেদনকারীরা।
