তিনতলার বারান্দায় পায়চারি করতে করতে মুখে গুটখা পুরেছিলেন। খানিক চিবোনোর পর মুখ বাড়িয়ে থুতু ফেলতে যান। তখনই দুর্ঘটনা! বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়া ১১ কিলোভোল্টের তারে থুতু পড়েছিল। সেখান থেকে বিদ্যৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেলেন ওই প্রৌঢ়। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের বিদিশা জেলায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের নাম প্রভুলাল গুপ্ত। বয়স ৬৫ বছর। পেশায় রাজমিস্ত্রি। বিদিশার গায়ত্রী নগরে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। শুক্রবার দুপুর ১টা নাগাদ তিনি দুর্ঘটনায় মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তিনতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে গুটখা মুখে পুরেছিলেন প্রভুলাল। চিবোতে চিবোতে বারান্দা থেকে থুতু ফেলেন। গুটখা চিবোনোর সময় তার ফেলা থুতুর ওভারহেড তারের সংস্পর্শে আসায় তিনি গুরুতর ভাবে দগ্ধ হন। উদ্ধার করে প্রৌঢ়কে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রভুলাল আদতে ছত্তরপুরের বাসিন্দা। বছর দশেক ধরে তিনি গায়ত্রী নগরে ভাড়া থাকতেন।
ওই দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের দাবি, কখনও সখনও এমনটা ঘটতে পারে। বিশেষ পরিস্থিতিতে। থুতু বা লালায় জল এবং গলিত লবণ থাকার কারণে এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে। যদি বার বার কোনও সক্রিয় বিদ্যুৎ পরিবাহীতে কেউ থুতু ফেলতে থাকেন, তখন বিদ্যুতের জন্য একটি পরিবাহী পথ তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। উপযুক্ত পরিস্থিতিতে বৈদ্যুতিক তার থেকে বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ বা ইলেকট্রিক্যাল আর্ক তৈরি হতে পারে। বারান্দাটি যদি বিদ্যুৎ পরিবাহী তারের যথেষ্ট কাছাকাছি থাকে, তবে বিদ্যুৎ বাতাসের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর এর ফলে শরীরে বিদ্যুৎ প্রবাহের কোনও পথ তৈরি হলে সেই শক লেগে মারাত্মক দগ্ধ হওয়া বা এমনকি, মৃত্যুর ঘটনাও ঘটতে পারে।
অন্য দিকে, প্রভুলালের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাবাসীর আঙুল বিদ্যুৎ দফতরের দিকে। তাঁদের অভিযোগ, বার বার বলা সত্ত্বেও লোকালয়ের সামনে দিয়ে উচ্চ তড়িৎবাহী তার টানা হয়েছে।
