হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ উইকেট নিয়ে সকালে আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়ে ধস নামিয়েছেন হাসান মাহমুদ। দিনের বাকি অংশে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠেছেন মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের আশি পেরোনো ইনিংসে আবুধাবি টেস্টে চালকের আসনে বাংলাদেশ। শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে একমাত্র টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২২৩ রান। প্রথম ইনিংসে পাওয়া ১০৬ রানের লিড মিলিয়ে বাংলাদেশের মোট এগিয়ে থাকা ৩২৯ রান। হাতে আছে আরও ৪ উইকেট।
দিনের শেষ দিকে দ্রুত তিন উইকেট হারালেও ম্যাচে এখন পর্যন্ত চালকের আসনে বাংলাদেশই।
দিনের শুরুতে ৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল আফগানিস্তান। হাসান মাহমুদ ও ইবাদত হোসেনের তোপে শেষ ৬ উইকেট হারাতে তারা যোগ করতে পেরেছে মাত্র ২৩ রান। আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস থেমেছে ২৪০ রানে। তাতে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।
আফগানিস্তানের হয়ে অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম টেস্টেই সেঞ্চুরি করেছেন রহমত শাহ। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি তাঁর দ্বিতীয় টেস্ট শতক, সব মিলিয়ে ১৩ টেস্টে চতুর্থ। তবে সতীর্থদের ব্যর্থতায় তাঁর সেঞ্চুরি শেষ পর্যন্ত দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেনি।
মুশফিক-শান্তর ১৫৯ রানের জুটি
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করেছিল বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান দ্রুত রান তুললেও একে একে ফিরে যান সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক ও তানজিদ। ৩ উইকেটে ৬৪ রান নিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। চতুর্থ উইকেটে দুজনের ১৫৯ রানের জুটিতে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। এই টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় শতরানের জুটি।
প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়া মুশফিক এবার খেলেছেন ৮১ রানের ইনিংস। ৭৩ বলে সাতটি চারে পূর্ণ করেন নিজের ৩০তম টেস্ট অর্ধশতক। শুরুতে সাবলীল ব্যাটিং করলেও পরে পুরোনো বলে কিছুটা ধীর হয়ে যান তিনি।
শেষ পর্যন্ত জিয়া-উর-রহমানকে উইকেটের পেছনে তুলে মারতে গিয়ে আউট হন মুশফিক।
অন্য প্রান্তে শান্তর শুরুটা ছিল কিছুটা অস্বস্তির। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ছন্দ খুঁজে পান বাংলাদেশ অধিনায়ক। ১৩৫ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করার পর হাত খোলেন তিনি। তবে ইনিংসের শুরুতে উইকেটের পেছনে ক্যাচের সুযোগ থেকে বেঁচে যাওয়া শান্ত পরে এলবিডব্লুর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ নিয়েও সফল হন। শেষ পর্যন্ত কায়েস আহমেদের লেগ স্পিনে বোল্ড হন ৮২ রান করে।
মুশফিক ও শান্তর বিদায়ের পর দ্রুত আরও একটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দিনের শেষ দিকে নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে নামা হাসান মাহমুদও এলবিডব্লু হয়ে ফিরেছেন। ৬ উইকেটে ২২৩ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। ক্রিজে আছেন লিটন কুমার দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ।
হাসানের হ্যাটট্রিক, ইবাদতের চার উইকেট
দিনের প্রথম সেশনেই আফগানিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন হাসান মাহমুদ। সকালে ইবাদত হোসেন ফিরিয়ে দেন ইকরাম আলিখিলকে। পরে দ্বিতীয় নতুন বল হাতে নিয়ে আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়ে ধস নামান হাসান।
সকালে নিজের দ্বিতীয় ওভারের টানা তিন বলে ইসমত আলম, কায়েস আহমেদ ও জিয়া-উর-রহমানকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি।
বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে প্রথম হ্যাটট্রিক এটি। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন হাসান। এর আগে লোক কাপালি ও সোহাগ গাজী টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছিলেন।
ইসমতকে বোল্ড করেন হাসান। কায়েসের ব্যাটের কানায় লেগে আসা বল দারুণ ক্ষিপ্রতায় তালুবন্দী করেন উইকেটকিপার লিটন দাস। জিয়ার বিপক্ষে আম্পায়ার আলাউদ্দিন পালেকারের দেওয়া এলবিডব্লুর সিদ্ধান্ত প্রথমে বাংলাদেশের পক্ষে ছিল না। পরে রিভিউ নিয়ে সফল হয় বাংলাদেশ, পূর্ণ হয় হাসানের হ্যাটট্রিক।
ইয়ামিন আহমদজাইকে শূন্য রানে ফিরিয়ে নিজের চতুর্থ পাঁচ উইকেটের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন হাসান। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডে শাহাদাত হোসেনের পাশে বসেছেন তিনি।
এর আগে এবাদতের বলে ইকরাম আউট হওয়ার পর আফগানিস্তানের শেষ উইকেট হিসেবে মোহাম্মদ সেলিমকে ফিরিয়ে দেন এবাদতই। ৫৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ইনিংস শেষ করেন তিনি।
দিনের সবচেয়ে উজ্জ্বল ব্যক্তিগত অর্জনটি রহমত শাহর হলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন বাংলাদেশের হাতেই। চতুর্থ দিনে সেই নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করতে লিটন-মিরাজের ব্যাটিংয়ের দিকেই তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশ।
খুলনা গেজেট/উউরা
