সৌদি আরবের রিয়াধ বিমানবন্দরে হামলায় ইতিমধ্যে দায়স্বীকার করেছে ইরান সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। শনিবারের ওই হামলায় নিহতদের মধ্যে এক ভারতীয় রয়েছেন। জখম হয়েছেন আরও ১০ ভারতীয় নাগরিক। রবিবারও সৌদিতে হামলা চালিয়েছে হুথি। এ বার রিয়াধ থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে দামাম বিমানবন্দরকে তারা নিশানা করেছে বলে দাবি ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর। যদিও এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি। ইতিমধ্যে সব উড়ান সংস্থাকে সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছে হুথি। সৌদির বিমানবন্দরগুলি এড়িয়ে চলার জন্য বলেছে তারা।
গত কয়েক দিন ধরেই সৌদির রাজধানী রিয়াধে কিং খলিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে নিশানা করে যাচ্ছে হুথি গোষ্ঠী। শনিবারও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তারা। তাতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়। জখম হন তিন শতাধিক। হামলার নিন্দা জানিয়েছে ভারতও। রবিবার সন্ধ্যায় রিয়াধে ভারতীয় দূতাবাস জানায়, হামলায় জখমদের মধ্যে ১১ ভারতীয়ও রয়েছেন। তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। ওই পোস্টের কয়েক ঘণ্টা পরেই সমাজমাধ্যমে ফের একটি পোস্ট করে দূতাবাস। সেখানে জানানো হয়, জখম ভারতীয়দের মধ্যে রবিবার একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের দেহ দ্রুত দেশে ফেরানোর জন্য পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে দূতাবাস। ভারতীয়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও।
ইরান সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী রবিবার এক বিবৃতিতে সকল উড়ান সংস্থাকে সতর্ক করে দিয়েছে। সৌদির বিমানবন্দর এবং আকাশসীমা ব্যবহার না করার জন্য পরামর্শ দিয়েছে তারা। মক্কা এবং মদিনার বিমানবন্দরগুলি বাদে সৌদির প্রতিটি বিমানবন্দরই ‘রণক্ষেত্রে’ পরিণত হয়েছে বলে সাবধান করে দিয়েছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী। সৌদির জন্য ‘আরও খারাপ পরিস্থিতি’ অপেক্ষা করছে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
এই সতর্কবার্তার পর পরই সৌদিকে লক্ষ্য করে ফের হামলা চালায় হুথি গোষ্ঠী। সৌদির দামাম বিমানবন্দর এবং জ্বালানি সংস্থা আরামকোর বেশ কয়েকটি শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করে তারা। যদিও এ বিষয়ে সৌদির কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। অন্য দিকে এ দিন সকালেও রিয়াধ বিমানবন্দরে হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছে সৌদির নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। তাদের দাবি, রিয়াধ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে রবিবারও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। তবে তা প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
